স্ক্যান্ডাল, তারকাদের আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

‘অপরাধ’ একটাই কেন শর্ট স্কার্ট পরেছেন! মডেল-অভিনেত্রী গওহর খানকে সেই আক্রোশে চড় মেড়েছিল ২৪ বছরের এক উন্মত্ত যুবক। এ নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় হয়ে যায় বলিউডে। কিন্তু সত্যতা মেলে তার কিছুদিন পরে। সেই যুবক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে, অনুষ্ঠানের প্রচার বাড়ানোর জন্য এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। গওহার নিজে তাকে চড় মারতে বলেন এবং সে জন্য তাকে টাকাও দিয়েছেন। এমনকি তিনি জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে অনুষ্ঠানে কাজ করছিলেন। তাঁকে বলা হয়, যদি উপস্থাপিকাকে চড় মারতে পারেন তাহলে সালমান খানের আগামী সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ করা হবে। খোলাসা হওয়াতে গওহার নিন্দিত হয়েছেন। বলিউড কিংবা হলিউডে এটা নিয়মিত হয়। কেউ কাউকে নিয়ে বেঁফাস কথা বলে। কিংবা কারোও সঙ্গে প্রেমের খবর রটানো হয়। এমনটা সেখানকার ডালভাতের মতো।

স্ক্যান্ডাল তারকার জন্য কখনো আশীর্বাদও বয়ে আনে। অনেক তারকাই এটা মনে করেন। যখন কোন তারকার পড়তি সময় চলে। তখনই  বাজারে চলে আসে কোন না কোন স্ক্যান্ডাল। আর তার ফলে তাকে নিয়ে চলে কিছুদিনের আলোচনা। সংবাদ মাধ্যমের বিচার বিশ্লেষন। তাকে নিয়ে তখন অনেকেই কাজ করতে আগ্রহী হয়। ফায়দা হয় সেই স্ক্যান্ডালে আক্রান্ত তারকারই।

তবে সত্যিকারের স্ক্যান্ডাল অভিশাপই হয় বেশি। যেমন আমাদের শোবিজের প্রভা। যখন তার স্ক্যান্ডাল রটালো সবখানে। সে সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। নাটক-বিজ্ঞাপনে ছিলেন তুমুল ব্যস্ত। হঠাৎই লন্ডভন্ড হয়ে গেল সব। সেই স্ক্যান্ডালে ছিল অপূর্বরও নাম। তবে অপূর্ব কৌশলে নিজেকে বের করেছেন। হুট করে তিনি ফের বিয়ের পিড়িতে বসেন। সংসার-সন্তান নিয়ে এখন বেশ সুখেই আছেন। কিন্তু প্রভা অনেকদিন পর ফের শোবিজে ফিরলেও সেই অবস্থানটা আর ধরে রাখতে পারেননি। এমনকি একটা সময়ে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করা প্রভাকে বর্তমানে দেখা যায় বেশিরভাগই পতিতা বা নেতিবাচক কোন চরিত্রে।

যৌন কেলেঙ্কারিরে কথা অনেকেরই শোবিজে রটায়। কেউ না কেউ রটায়। তবে সঠিক প্রমাণ মেলেনি বলে অনেকের ক্যারিয়ারে কোন ছেদ পড়েনি। লাক্স তারকা চৈতীর এমন কেলেঙ্কারিতে ক্যারিয়ারেই শেষ হয়ে যায়। কেলেঙ্কারি এমন একটি ব্যাপার যার ছিটে কারো নামে লাগলে কখনো যায় না। এমন আরেকজন পিয়া বিপাশা। বর্তমান সময়ে শোবিজের যেকোন কেলেঙ্কারিতে তাঁর নাম আসে। সব কেলেঙ্কারির সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা সেটা প্রমানিতও নয়। তবে কীভাবে যেন তার নামটা জড়িয়ে যায়।

এ নিয়ে অভিনেত্রী মম বলেন,‘প্রচুর স্ক্যান্ডাল নিউজ দেখি। খুব কমই দেখেছি সত্যি হতে। এর একটাই কারণ সংবাদ মাধ্যমগুলো নিজেদের আলোচনায় রাখতে চায়। আমার কথা হলো সত্যি যা তা প্রচার করুক। আমাদের এই স্ক্যান্ডাল ছাড়াও তো কত খবর আছে। সেটা না করে আমরা কার সঙ্গে ঘুরতে গেলাম। কি করলাম সেসব নিয়ে পরে থাকে। এটা করে আসলে আমাদের সামাজিক অবক্ষয় করা হয়। ‘

সারিকা বলেন,‘ আমি মনে করি তারকাদের ব্যক্তিগত সব খবরই ভক্তরা জানুক। কিন্তু অনেক সময় মিথ্যে গুজব ছড়ানো হয়। সেটা আসলে বিরক্তীকর। এটা ক্যারিয়ারের অভিশাপই বলবো। এটা করে হয়তো সাময়িক আলোচনায় থাকা যায়। দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার জন্য ভালো কাজ করতে হবে।

Add Comment