No icon

ঈদে মিলাদুন্নবী

আরিফুল হক

“মদৌ বর্তিতা দেবা দকারান্তে প্রকৃত্তিতা। বৃষানাং বক্ষয়েৎ সদা মেদা শাস্ত্রেচস্মৃতা।” (সামবেদ সংহিতা)

অর্থ হল, ‘যে দেবের নামের প্রথম অক্ষর ‘ম’ এবং শেষ অক্ষর ‘দ’। যিনি বৃষ মাংস ভক্ষণ সর্বকালের জন্য পুনঃ বৈধ করিবেন, তিনিই হইবেন বেদানুযায়ী ঋষি।’

বৌদ্ধধর্মের ত্রিপিটকে আছে, “আমি শেষ বুদ্ধ নই। আমার চেয়েও পবিত্র, অধিকতর আলোকপ্রাপ্ত বুদ্ধ আসবেন তার নাম মৈত্রেয়।” আর এই বৌদ্ধ মৈত্রেয় শব্দের আরবি হচ্ছে রাহমাতুল্লিল আলামিন।
পবিত্র বাইবেলে যীশু খৃষ্ট বলেছেন, “আমি তোমাদের সত্যটাই বলি। আমি চলে গেলে তোমাদের মঙ্গলই হবে। কারণ আমি না গেলে সে সাহায্যকারী আসতে পারবেনা। আমি গেলেই সে আসবে। (গসপেল অফ জন: চ্যাপ্টার ১৫, ভলিউম: ৭)

অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় সব ধর্ম-প্রবর্তনকারীগনই সেই মহাপুরুষের আগমন বাণী ঘোষণা করে গেছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা স্বয়ং ফরমান করছেন, “আমি আপনাকে সমগ্র সৃষ্টির রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।” (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)

পবিত্র আল কোরআন আরও বলছে, “তিনিই তাঁর রসূল কে হেদায়েত ও সত্যধর্ম সহ প্রেরণ করেছেন, যাতে ইহাকে অন্য সব ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে আল্লাহই যথেষ্ট।” (সুরা আল ফাতহ: ২৮)
বলছিলাম মানবকুলের শ্রেষ্ঠ মানব, নবীকুলের শ্রেষ্ঠ নবী, হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর কথা। আমরা সেই সৌভাগ্যবান জাতি যারা এমন একজন মহামানবের উম্মত হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছি।
আমরা সেই সৌভাগ্যবান জাতি যারা তাঁর সান্নিধ্যে এসে, আল্লাহ তায়ালার বাণী সংবলিত আল কোরআনের আলোকে আলোকিত হতে পেরেছি।

আমরা সেই সৌভাগ্যবান জাতি যার মহান নবী (সঃ) আপন কর্মময় জীবনের নমুনা দিয়ে, কিভাবে কোরআনের বাণী জীবনের কাজে লাগাতে হবে, তা আমাদের ব্যাখ্যা করেছেন এবং হাতে কলমে নিজে করে দেখিয়ে গেছেন।

আমাদের রাসূল (সঃ) এর জীবন কোন মিথ, লোককথা, বা ঠাকুরমার ঝুলির গল্পকথা নয়। সবটুকুই বাস্তব। ইতিহাস বলছে, তাঁর সান্নিধ্যে এসে, বিরান মরুভূমির অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের বুকে সূর্যোদয় ঘটেছিল। পৃথিবী পেয়েছিল হজরত ওমরের মত ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক। হজরত আলির মত সুবিচারক ও মহান জ্ঞানতাপস। হজরত ইবনুল আসের মত সুদক্ষ রাজনীতিবিদ। খালিদ বিন ওয়ালীদের মত সাহসী, সুদক্ষ সেনাপতি। যারা আজও বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে অনুকরণীয় হয়ে আছেন। এঁরা সকলেই তো সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, যে বিশ্ববিদ্যালয় ‘মসজিদে নববী’ নামে পরিচিত এবং যার একমাত্র শিক্ষক আমাদের নবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ)।

শুধু এই ক’জন আলোকিত মানুষই নয়, মসজিদে নববীর দীপ্তি বিশ্ব সভ্যতাকে আলোকিত করেছিল। বলা যেতে পারে মনুষ্য সভ্যতার সোপান নির্মাণ করেছিল। মসজিদে নববীর শিক্ষা পেয়েই তো সেদিনের মুসলমানরা জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, শিল্পে-স্থাপত্যে, সাহিত্যে-সংগীতে আধুনিক বিশ্বের পথ রচনা করেছিলেন। আজ যদি বলি কেমিস্ট্রির জন্মদাতা কে? মুসা জাবেরের নাম আসবে। যদি বলি চিকিৎসা এবং সার্জারি বিদ্যার উদ্ভাবক কে? মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আর রাজা এবং আলী হুসাইন ইবনে সিনার নাম উচ্চারিত হবে। যদি বলি বীজগণিত বা এলজেবরার আবিষ্কর্তা কে? উচ্চারিত হবে মোহাম্মদ মুসা আল খারেজিমীর নামটি। যারা সকলেই ছিলেন মসজিদে নববীর আলোক প্রাপ্ত বিদ্বান! এই ভাবে পৃথিবীর মানচিত্র তৈরি থেকে সমুদ্রের পানি মাপা যন্ত্র তৈরি, অবজারভেটরি বা মানমন্দির নির্মাণ, ইস্পাত তৈরি, কাগজ তৈরি, কালি তৈরি, বরফ তৈরি ,কম্পাস যন্ত্র তৈরি অর্থাৎ আধুনিক বিশ্ব নির্মাণে যা যা প্রয়োজন তার সিংহভাগ এই মসজিদে নববীর আলোকপ্রাপ্ত মুসলমানদেরই সৃষ্টি। একথা হয়ত আমরা আজ ভুলতে বসেছি। কিন্তু এটাই ঐতিহাসিক সত্য।
পৃথিবীর নানান দেশে বহু মহা-মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন, কিন্তু একটু গভীর ভাবে অনুধাবন করলে আমরা দেখতে পাব যে, সেইসব মহাপুরুষদের মহত্ত্ব বা কৃতিত্ব সীমাবদ্ধ ছিল এক কিংবা দুই ক্ষেত্রে। কিন্তু সর্ব কৃতিত্বের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর ও সকল মহাপুরুষের সম্মিলিত কৃতিত্বের একত্র সমাবেশ ঘটেছিল যার মধ্যে তেমন মানুষ পৃথিবীর বুকে একজনই এসেছিলেন—তিনি আমাদের রাসূল হজরত মোহাম্মদ (সঃ), একি কম গৌরবের কথা।

ফ্রান্সের বিখ্যাত লেখক, ইতিহাসবিদ  ‘Alphonse de Lamartine তাঁর ‘History of Turkey’ বইতে লিখেছেন, “দার্শনিক, বক্তা, ধর্মপ্রচারক, যোদ্ধা, আইন রচয়িতা, আইডিয়া বা ভাবের বিজয়কর্তা, বিমূর্ত কর্মপদ্ধতির সংস্থাপক, কুড়িটি পার্থিব রাজ্যের এবং একটি ধর্মরাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা, দেখ সেই মুহাম্মদ (সঃ)-কে, মানুষের মহত্ত্বের যতগুলো মাপকাঠি আছে, তা দিয়ে মাপলে কোন মানুষ তাঁর চেয়ে মহত্তর হতে পারে?”
প্রকৃত মহামানব হতে হলে তাঁর জীবন কতগুলো শর্তসাপেক্ষে হতে হয়। মহামানবের জীবন কিসসা-কাহিনী নির্ভর অলৌকিক হলে চলেনা। তাকে হতে হয় ইতিহাস নির্ভর এবং বাস্তব ঘটনাবলির নিরিখে সত্যনির্ভর। পৃথিবীতে শতশত ধর্মপ্রচারক, দেবতা বা মহাপুরুষের নাম উচ্চারিত হয়। কিন্তু তাঁদের একজনেরও জীবন-ইতিহাস, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রামাণ্য নয়। কারও জীবন-ইতিহাস বাস্তব সম্মতভাবে রক্ষিতও নেই। সেদিক থেকে হজরত মোহাম্মদ (সঃ) একমাত্র ব্যতিক্রমী মহাপুরুষ, যার জন্ম থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সকল ঘটনাবলি ডায়েরির পাতার মত অবিকৃত ভাবে লেখা এবং সংরক্ষিত আছে।

হজরত মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ। পৃথিবীর তাবৎ মহাপুরুষের কেউই তারমত পরিপূর্ণতায় উত্তীর্ণ হতে পারে নি। তিনি অলৌকিক ক্ষমতা দেখিয়ে মানুষের মন জয় করেননি। তিনি ছিলেন স্বয়ংসম্পূর্ণ মানবের প্রতীক। তাঁর চরিত্রে স্বামী খুঁজে পাবেন আদর্শ স্বামীর নিদর্শন। পুত্র পাবেন মাতৃ-পিতৃ ভক্ত পুত্রের নিদর্শন। পিতা পাবেন মমতাশীল কর্তব্যপরায়ণ পিতার নিদর্শন। ব্যবসায়ী দেখবেন সৎ আদর্শবান ব্যবসায়ীকে। যোদ্ধা দেখবেন একজন শ্রেষ্ঠ রণকুশলী যোদ্ধা কে। বিচারক দেখবেন ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক কে। অর্থাৎ পৃথিবীর মানুষের সমস্ত সৎ গুনাবলীর একত্র সমাবেশ ঘটেছিল আমাদের রাসূল (সঃ) এর মধ্যে।
এই মহান ধর্ম প্রচারক, সিদ্ধপুরুষ, দার্শনিক, সংস্কারক, যুগপ্রবর্তক, ব্যবসায়ী, সম্রাট, রাজনীতিজ্ঞ, সুবিচারক, সেনাধ্যক্ষ, যোদ্ধা, বাগ্মী, ক্রীতদাসের ত্রাণকর্তা, অনাথের পালক, নারীর উদ্ধারকর্তা, যার প্রতিটি কর্মই সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুকরণীয় এবং অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে; সেই মহাপুরুষটি এই ধরাধামে এসেছিলেন ঈসাই ৫৭০ এর ১২ই রবিউল আউয়াল, সোমবার।

মানুষের জীবনে কিছু বিরল স্মরণীয় দিন থাকে, যাকে ইংরেজিতে ‘রেড লেটার ডে’ বলা হয়। কিন্তু বিশ্বমানবজাতির জীবনে এই ১২ই রবিউল আউয়ালের দিনটির চাইতে মহান রেড লেটার ডে আর কি হতে পারে।
এই মহান দিনে মুসলমানেরা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ পালন করেন। ঈদে মিলাদুন্নবী বাক্যটি, তিনটি বাক্য নিয়ে গঠিত! ‘ঈদ’ অর্থাৎ আনন্দোৎসব, ‘মিলাদ’ অর্থাৎ জন্মদিন, ‘নবী’ মানে ঐশী বার্তা বাহক। ঈদে মিলাদুন্নবী মানে হল আল্লাহর বার্তাবাহক নবীর জন্মোৎসব পালন।

মহান মানুষদের জন্মদিন পালন কেন দরকার?

রবীন্দ্রনাথ একবার বলেছিলেন, “তোমরা রচিলে যারে নানা অলঙ্কারে, তারে তো চিনিনা আমি।” মানুষের ভুলো মন, যে ভুলে যায়। ভুলে যায় মহাপুরুষদের জীবন, বাণী, তাঁর সৎ গুণাবলীর কথা। জন্মদিনের উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে, মহাপুরুষের জীবনচরিত আলোচনার মধ্যদিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে দেয়া যায় তাঁদের চরিত্র নিদর্শন, সৎবাক্য, এবং সৎ গুণাবলীর কথা। নইলে যত অলঙ্কারপূর্ণ মানুষই জীবনে আসুক না কেন, একদিন কালের আবর্তে তিনি হয়ত অচেনা হয়ে যেতে পারেন। স্মরণীয় মানুষের জন্মদিন পালনের রেওয়াজ সব জাতিরই আছে। কারণ এর মাধ্যমে কীর্তিমান মহাপুরুষদের জীবনের সান্নিধ্যে এসে আমরা নিজেদের জীবনকে আলোকিত করার সুযোগ পেতে পারি।

একসময় মুসলিম সংখ্যাগুরু বাংলাতেও মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্মোৎসব ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ মহাসমারোহে পালিত হত। রাস্তাঘাট তৌহিদী পতাকায় বর্ণীল সাজে সেজে উঠতো। মসজিদ, লাইব্রেরি, স্কুল, ক্লাব সহ নানান সংগঠনে রাসূল (সঃ) এর জীবনী ভিত্তিক আলোচনা, সেমিনার, কবিতা পাঠ, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হত। আরও নানান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষের মনে, বিশেষ করে তরুণ কিশোরদের মধ্যে নবী (সঃ) নামের প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করা যেত।

আজ বাংলাদেশের ১৮ কোটি মুসলমান এক ভ্রান্তির কুয়াশায় পথ হেঁটে চলেছে। আজ তারা উত্তমকে সমাধিস্থ রেখে অধমের উপর সওয়ার হয়েছে। আজ বাংলাদেশের রেডিও, টেলিভিশন, বিভিন্ন একাডেমী, সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোতে শ্রী কৃষ্ণ জয়ন্তী, বৌদ্ধ জয়ন্তী, খৃষ্ট জয়ন্তী, রবীন্দ্র জয়ন্তী, কালিদাস জয়ন্তী, সূর্যসেন জয়ন্তী, মুজিব জয়ন্তী এমনকি কেরী সাহেবের জন্মদিন সহ আরও বহু জন্মদিন পালন করা হয়। অনীহা কেবল মহামানবের মহামানব, হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্মোৎসব পালনের বেলায়। এ এক মহামারীর নিদর্শন। যার চিহ্ন ফুটে উঠতে দেখা যাচ্ছে।

১৮ কোটি মুসলমানের দেশে ‘শিখা অনির্বাণ’, ‘শিখা চিরন্তন’ নাম দিয়ে অগ্নিদেবতার পূজা শুরু হয়েছে। এক সময়ের মসজিদের নগরী খ্যাত দেশ, এখন মূর্তির নগরীর রূপ ধারণ করেছে। ভার্সিটি থেকে কোরআনের আয়াত আর সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ শব্দ মুছে ফেলা হয়েছে। মুসলমান সন্তানদের নাম থেকে শুধু ‘মোহাম্মদ’ শব্দ নয়, আরবি ফারসি নাম রাখাও উঠে যাচ্ছে। আসসালামু আলাইকুম বলা এবং আল্লাহ হাফেজ বলা জঙ্গিবাদের লক্ষণ বলে প্রচার করা হচ্ছে। হাজী সম্বোধন নিষিদ্ধ করার দাবী উঠছে। মক্তব মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গি তৈরির কারখানা বলা হচ্ছে। ৯০% মুসলমানের দেশে কি অসামান্য ঔদ্ধত্য মুশরিকদের, আর কি হিমশীতল সহনশীলতা এবং ঔদার্য মুসলমানদের। তারা খামোশ রূপ ধারণ করেছেন।

বন্ধুগন শুধুই সহনশীলতা ইসলামের ঐতিহ্য নয়। চারটি শব্দে ইসলামের ঐতিহ্য বিবৃত করা হয়েছে। “ইন্না মায়াল উসরি ইউসরা”, কষ্টের সাথে আরামের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কঠোরতার সাথে কোমলতা। প্রয়োজনে কঠোর যে হতে পারেনা, তার মধ্যে কোমলতা গুন থাকতে পারেনা। ইসলাম কোন মৃতের ধর্ম নয়। ইসলাম সদা সজীব, অপরাজেয়, দূর্বার জাতির ধর্ম। যারা বলেন ইসলাম শুধু শান্তির ধর্ম তারা ঈমানে দুর্বল, আপোষকামী, সংগ্রাম বিপ্লব বিমুখ। আপোষকামীদের দ্বারা ইসলাম রক্ষা সম্ভব নয়। মুমিন বান্দাদের আল্লাহ চৌমুখী লড়াই এ উদ্বুদ্ধ করেছেন। (আনফালঃ ৫৮-৫৯)। ১. অভিশপ্ত ইবলিশ ও তার শয়তানী সৈন্যবাহিনী। ২. নিজের নফস ও লালসা বাসনা। ৩. আল্লাহ বিমুখ অসংখ্য মানুষ যাদের সাথে সামরিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জালে বন্দী। ৪. ভ্রান্ত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা যা আল্লাহদ্রোহীতার উপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলাম কোরবানি চায়, কাপুরুষদের দিয়ে দাস জাতি গঠন সম্ভব, কিন্তু মহৎ মুসলমান জাতি নয়। এটাই রাসূল (সঃ) এর শিক্ষা। মিলাদুন্নবী উৎসবের এটাই আজকের বাণী।

Comment As:

Comment (0)