No icon

বাংলাদেশ কি ‘র’এর শিকলে বাঁধা পড়েছে

এ কথা কে না জানে যে,ভারত জন্মগত ভাবে একটি সাম্প্রদায়িক এবং সম্প্রসারণবাদী দেশ । ১৯৪৭ এর পর ভারত ৫৬৫ টি দেশীয় রাজ্যের প্রায় সবকটি গ্রাস করেছে। পর্তুগীজ এনক্লেভ গোয়া, দামাও, দীউ, এবং ফরাসী এনক্লেভ,পন্ডিচেরী, মাহে, ইয়ানাম,কারিকেল,চন্দন নগর, গায়ের জোরে দখল করেছে। পাকিস্তানের নাম নিশানা মিটিয়ে দেবার জন্য,একাধিকবার দেশটির উপর সেনা অভিযান চালিয়েছে। ইংরেজ সৃষ্ট বিতর্কিত ম্যাকমেহন লাইন সীমান্ত নিয়ে চীনের সাথে ১৯৬২ সালে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এখনও সেই যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। দালাই লামা কে নিজ দেশে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে এক শিখন্ডী সরকার খাড়া করে ত্ব্বিতকে চীন থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজের কব্জায় নেয়ার পাঁয়তারা করেছে। শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চল সহ গোটা দ্বীপাঞ্চলটি দখল করার জন্য সেখানে এলটিটি গেরিলা বাহিনী সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন য্দ্ধু চালিয়ে দেশটির গতিশীল উন্নয়ন পঙ্গু করে দিয়েছে। নিরীহ মালদ্বীপে সন্ত্রাসী ডাকাত অভিযাত্রী পাঠিয়ে দেশটিকে ভীত সন্ত্রস্ত করে রেখেছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধশালী এক দশমাংশ ভূভাগ পার্বত্যচট্টগ্রামকে গ্রাস করার জন্য, সেখানকার কিছু সন্ত্রাসী চাকমাকে নিজ দেশে আশ্রয় দিয়ে, অস্ত্র প্রশিক্ষন দিয়ে, বাংলাদেশের বিরূদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে,অঞ্চলটিকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে। বাংলাদেশের প্রায় সবকটা নদীর উজানে বাঁধ গ্রোয়েন ইত্যাদি নির্মান করে, দেশটিকে খরায় শুখিয়ে মারছে,বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে। বর্ডার এলাকায় বাংলাদেশিদের দেখামাত্র গুলিকরে মারছে। দেশে এক শিখন্ডী সরকার খাড়া করে, স্বাধীন দেশের ভেতর দিয়ে করিডোর আদায় করে নিয়েছে। নৌবন্দর গুলো ব্যবহার করার অধিকার আদায় করে নিয়েছে। মানুষ আজ বিশ্বাস করত পারছেনা, তাদের স্বাধীনতা আছে কি নেই। প্রশ্ন করতে চাইলেও গলা চেপে ধরা হচ্ছে।
মানুষের এতদুরাবস্থার মধ্যেও হিজমাস্টার’স ভয়েসের কলের গানে শোনা যাচ্ছে, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু।‘ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বামী স্ত্রীর মত। ‘বাংলাদেশ ভারতের জন্য নাড়ীর টান অনুভব করে ‘ইত্যাদি ইত্যাদি। ভারত যখন দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার কোন দেশেরই বন্ধু নয়, তখন সব খোয়ানো বাংলাদেশে এখন ‘স্বামী-স্ত্রী’ সম্পর্কের কলেরগান বাজাচ্ছে কারা? স্বাধীনতা প্রিয় বিজ্ঞজনদের অভিমত, এরাই কি সেই ভারতের ‘র’ অপারেটর্স, যাদের খালি চোখে চেনা যাচ্ছেনা?

‘র’ (RAW ) জিনিষটা কি, সেটি জানলেই বিষয় টি আরও পরিষ্কার হবে।
‘র’( RAW ) অর্থাৎ Research and Analysis Wing এটি হচ্ছে ভারতের একটি গুপ্তচর সংস্থা। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধে, পাকিস্তানের হাতে মার খাওয়ার পর, তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৮ সালে এই গুপ্তচর সংস্থাটির পত্তন করেন। মিঃ রামেশ্বর নাথ কাও ছিলেন সংস্থাটির প্রথম প্রধান। প্রথমদিকে এর সদস্য সংখ্যা ছিল ২৫০জন বর্তমানে যার অফিসার এবং স্টাফ সংখ্যা ৮হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গুপ্তচর সংস্থা। এদের নিজস্ব এয়ারক্রাফ্ট আছে হেলিকপ্টার আছে। ‘র’ এমনএকটি সংস্থা যাকেএকমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয়না। এমন কি লোকসভা রাজ্যসভার কাছেও নয় ।

র’এর কাজ কি ?
এদের কার্য্যতালিকায় আছে, (ক) অরক্ষিত, দূর্বল এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর ভারতীয় আধিপত্যের দুষ্ট প্রভাব বিস্তার করা। (খ) ভারত কে সুপার পাওয়ারে পরিনত করার লক্ষ্য নিয়ে, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রাষ্ট্র গুলোর, সামরিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রসমূহ ভারতীয় প্রভাব বলয়ে এনে ভারতের সাথে লীন করে ফেলার ব্যবস্থা করা। ( গ) ব্রাম্ভণ্যবাদীদের ‘অখণ্ড ভারত’ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ করা এদের দায়িত্ব।

র’ নানাকৌশলে এই কাজগুলো করে থাকে। তারা রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশন স্টাফ, বা এনজিও ছদ্মবেশে বা কোন ডেভলপমেন্ট কাজের আওয়ায় দেশগুলোতে ঢুকে পড়ে। এবং এদের কার্যক্রম শুরু করে।
এভাবে তারা অসামরিক, সামরিক অফিসারদের, ট্রেনিংএর নামে লোভ লালসা দেখিয়ে তাদের ভিতরে নিজস্ব এজেন্ট তৈরী করে ।
বুদ্ধিজীবীদের ভিতর মাসোহারা, স্কলারশীপ, ডক্টরেট, স্টাডিট্যুর ইত্যাদি বিতরন করে এজেন্ট তৈরি করে।

সাংস্কৃতিক কর্মী, শিল্পী সাহিত্যিকদের নগদ টাকা, ট্যুর, ট্রেনিং সম্মাননা, পদক, প্রশংসাপত্র ইত্যাদি বিতরনের মাধ্যমে মগজ ধোলাই করে ভারতীয় ভাবধারায় প্রভাবিত করে ।এছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যবসা বিতরন করে, মিডিয়াগুলতে নগদ টাকা, বিজ্ঞাপন সহ আরও নানান ভাবে, নানা প্রলোভন দিয়ে দূর্বল দেশগুলিতে এক বিরাট দেশীয় ‘র’ এজেন্ট বাহিনী গড়ে তুলে দেশটিকে সম্পূর্ণ ভারত অনুগত করে ফেলে।

১৯৭১এরপর,বিগত পঞ্চাশ বছরে ধরে ‘র’ নিপুনতার সাথে বাংলাদেশে উপরোক্ত কাজ গুলো করে আসছে। যারফলে বাংলাদশ আজ ভারতীয় রেডারের বাইরে যেতে পারছেনা। ভারত যা আশা করেছিল, বাংলাদেশ তারও অধিক ভারতের হাতে তুলে দিচ্ছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছেন ভারতকে যা দিয়েছি, ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে। অপর পক্ষে, ভারত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাংলাদেশ কে ঘিরে রেখেছে। ভারতের বি এস এফ প্রায় প্রতিদিন বাংলাদেশের মানুষকে গুলি করে মারছে,এবং বাংলাদেশের মানুষ তা সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। ২৪ বছরের গঙ্গা পানি চুক্তি আজ অদৃশ্য। তিস্তার পানি, দেব-দিচ্ছি বাহানাতেই যুগ পার করে দিচ্ছে। বাংলাদেশের সম্পূর্ণ বাজার ভারতের নিয়ন্ত্রনে। জনগনের প্রতিবাদ করার অধিকার নেই। প্রতিবাদ করলে হত্যা গুম,ক্রশফায়ার,নয়তো কারাগারে নিয়ে নির্য্যাতন করে পঙ্গু করে ফেলা হচ্ছে।
দেশের রাজনীতি,গণতন্ত্র, নির্বাচন, আইন শৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। দেশের সিভিল প্রশাসন, শিক্ষা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, ব্যাংকিং খাত সহ সকল গুরুত্বপূর্ণ ইনিস্টিটিউশনই ছদ্মবেশী ‘র’ অপারেটরদের নিয়ত্রনে চলে গেছে। এই সুযোগে সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা লাগানোর হীন উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশে সংগঠিত ভারতের দালাল গোষ্ঠী,‘র’ এর ইঙ্গিতে কোরান অবমাননা করছে ,রসূল (সাঃ), অবমাননা করছে, নিজেরাই আবার সংখ্যলঘু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে, ‘কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ‘শুরু করার হুমকি দিচ্ছে। ভারতীয় বিজেপির চরম সাম্প্রদায়িক শ্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিতে উস্কানি দিচ্ছে। দেশের আলেম ওলামাদলের হেনস্থা করছে। ৯০% মুসলমান অসহায়ের মত শুধু তাকিয়ে থাকছে। প্রতিবাদ করলে জঙ্গী নামদিয়ে ক্রশফায়ারে, নয়তো জেলেপুরে টর্চার করে মেরে ফেলা হচ্ছে।

বাংলাদেশের এ হেন পরিস্থিতি বিশ্লেষন করলে কতগুলো প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক। যেমন বর্তমান বাংলাদেশ সরকার কি তবে ভারতীয় কমান্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? ভারতীয় ‘র’ এবং দেশীয় ‘র’ এজেন্টরা কি বাংলাদেশটাকে ভারত নিয়ন্ত্রিত, সেল্ফ মেড কলোনীতে রূপান্তরিত করেছে ? ভারত সরকার এবং আওয়ামীলীগ সরকার উভয়ে মিলে কি, ১৯৭১ সালের ইন্দিরা-তাজুদ্দিন কৃত ৭দফা গোলামী চুক্তি বাস্তবায়ন করছে? ২০০৯ সালে পীলখানা সেনানিবাসে ৫৮ জন চৌকস সেনাঅফিসার হত্যার ঘটনা দেখে মনে হওয়া কি স্বাভাবিক নয় যে, এটা ছিল রৌমারি এবং পদুয়ায় ভারতীয় সেনাদের মার খাওয়ার প্রতিশোধ গ্রহন। এবংবাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ভয় দেখানোর জন্য ‘র’ এবং তার এজেন্টরা মিলে পিলখানায় ব্লাফলিং গেম বা প্রতারণার খেলা খেলেছিল। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান, জেনারেল আজিজ আহমদের একটি টেলিফোন কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ায় এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যেন অন্য কোন কমান্ড দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। এসব শংকা মনে আসার কারন, নিচের দুইটি উদ্ধৃতি থেকে আরও পষ্ট হয়ে ওঠে ।
সবশেষে পত্রিকার সেই উদ্ধৃতি দুটি আপনাদের জ্ঞাতার্থে দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানব।

Comment As:

Comment (0)