No icon

স্বাধীনতার ৫০ বছরে ‘স্বাধীনতা

স্বাধীনতার তাৎপর্য কী? এ নিয়ে তত্ত্বকথার শেষ নেই। অক্সফোর্ড রাজনৈতিক অভিধানে ‘স্বাধীনতা’কে অন্যের হস্তক্ষেপমুক্ত অবস্থা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্য কথায় এটি বাধা-বন্ধনহীন বা প্রতিবন্ধকতাবিহীন পরিবেশ। জেরাল্ড ম্যাককালাম বলেছেন, স্বাধীনতা আপেক্ষিক। ইসা বার্লিন স্বাধীনতাকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন- ইতিবাচক ও নেতিবাচক। ইতিবাচক মানে ব্যক্তি বা জাতির সক্ষমতা এবং নেতিবাচক হলো নানা ধরনের বাধা-বিপত্তি বা অধীনতা। হিলার স্টেইনার স্বাধীনতাকে দেখেছেন নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিকে স্বাধীন বলা যাবে না তখন, যখন সে অন্য ব্যক্তির প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ করতে সক্ষম নয়।’ অনেকে স্বাধীনতাকে সম্পদের বণ্টন ও মালিকানার সাথে সম্পৃক্ত করেন।

 

মার্কসবাদীরা অর্থনৈতিক নির্ধারক দ্বারা স্বাধীনতাকে ব্যাখ্যা করে থাকেন। গণতন্ত্রবাদীদের কাছে রাজনৈতিক স্বাধীনতাই মুখ্য। গোটা বিশ^ব্যাপী জাতি ও অঞ্চলসমূহ ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনস্থ হয়ে পড়ার কারণে প্রথমত ভূখণ্ডগত স্বাধীনতা জাতিগত স্বাধীনতার পূর্বশর্ত হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ শক্তির বিদায় ভৌগোলিক বা জাতিগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। ঔপনিবেশিক শক্তির বিদায়ের পর জাতিসমূহ যখন স্বাধীনতা অর্জন করে তারপরই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক স্বাধীনতার দাবি প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ায়। সদ্য প্রতিষ্ঠিত জাতিসমূহ তথা সরকারের কাছে ‘স্বাধীনতা’ তখন অন্য তাৎপর্য ও সীমারেখা নিয়ে উপস্থিত হয়। সেটির সাধারণ নাম হলো নাগরিক স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা নির্ভর করে স্থাপিত শাসনকাঠামোর ধরন-ধারণের ওপর। দেশটি উপনিবেশমুক্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি শাসিত, মন্ত্রিপরিষদ শাসিত অথবা স্বৈরশাসিত হতে পারে। তাই শাসনের প্রকারভেদে নাগরিক স্বাধীনতারও রকমফের রয়েছে। সদ্য উপনিবেশমুক্ত জাতিসমূহের নেতৃত্বের ওপর এটি বহুলাংশে নির্ভরশীল। ভারতের জাতীয় নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক তথা সংসদীয় সরকারব্যবস্থাকে গ্রহণ করে। অপরদিকে, পাকিস্তানের জাতীয় নেতৃত্ব একক নেতৃত্বের অধীনে থেকে যায়।

ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারে মুক্তিযুদ্ধ নেতৃত্ব প্রকারান্তরে সামরিক রূপ পরিগ্রহ করে। ভিয়েতনামে দলীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের জনগণকে স্বাধীনতার জন্য দু’বার রক্ত দিতে হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসনমুক্তি ঘটলেও তদানীন্তন পাকিস্তানের পূর্বাংশের জনগণ ‘অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক’ জাঁতাকলে নিষ্পিষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃত্ব গণতন্ত্র তথা সংসদীয় শাসনব্যবস্থাকে সাংবিধানিকভাবে গ্রহণ করলেও জীবনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেনি। ফলে বাকশাল, সামরিক শাসন ও ব্যক্তিতন্ত্রের মাধ্যমে নাগরিক স্বাধীনতা বিপর্যস্ত হয়েছে।

প্রতিটি বিষয়ই পদ্ধতি ও প্রয়োগের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এটি একটি বাস্তব সত্য। পদ্ধতিগতভাবে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংসদীয় সরকারব্যবস্থা এর মূলমন্ত্র। এর সংবিধানে নাগরিক স্বাধীনতা অর্থাৎ বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, ধর্মের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়কে যথেষ্ট সুরক্ষা দেয়া হয়েছে।

প্রায়োগিকভাবে কাঠামোটি বহাল থাকলেও বাস্তবে এটি প্রায় অনুপস্থিত। পদ্ধতি অর্থহীন হয়ে যায় যদি প্রয়োগ না থাকে। কথায় বলে, ‘গরু খাতায় আছে, গোয়ালে নেই’। এই জাতির দুর্ভাগ্য যে, বিগত ৫০ বছরে কোনোকালে কোনো নেতৃত্বই ব্যক্তিস্বাধীনতার নীতিগুলোকে যথার্থভাবে অনুসরণ করেনি। তৃতীয় বিশে^র বাস্তবতায় এর শতভাগ প্রয়োগ কাম্য হলেও বাস্তবে হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, শাসককুলে বা শাসকদলে বা নেতৃত্বে কখনোই নাগরিক স্বাধীনতার চেতনাটি জাগরূক থাকেনি। জনগণের স্বাধীনতাকে মেনে নেয়নি কোনো দল কোনোকালে। অতীত এবং বর্তমানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গণতন্ত্রের জন্য যথেষ্ট গলাবাজি করলেও নাগরিক স্বাধীনতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমিত ছিল সবসময়।

আমরা জানি, নাগরিক স্বাধীনতা গণতন্ত্রের মাধ্যমে প্রায়োগিক রূপ লাভ করে। গণতন্ত্র একটি শাসনপদ্ধতি। আবার গণতন্ত্র একটি জীবনপদ্ধতি। সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গণতন্ত্র পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, এ দেশের নেতা-নেত্রীরা গরিষ্ঠ জনগণের সিদ্ধান্তকে কখনোই হাসিমুখে মেনে নিতে পারেননি। এটি মানসিকতার ব্যাপার। এই মানসিকতা হঠাৎ করে গড়ে উঠে না। এটি দীর্ঘমেয়াদি অনুশীলন, অনুকরণ ও অনুসরণের বিষয়। নেতা বা নেত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠের আদেশ মেনে নেয়ার ক্ষেত্র, পরিবেশ ও পরিপার্শ্ব গুরুত্বপূর্ণ। পদ্ধতিগতভাবে বিষয়টি যদি অনুসৃত, অনুমোদিত ও আনুষ্ঠানিক থাকে, তাহলে একজন ক্ষমতাদর্পী ‘ট্রাম্প’কেও প্রাতিষ্ঠানিকতার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়।

বাংলাদেশে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এই আশা উত্থিত হয় যে, কাক্সিক্ষত নাগরিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হবে। জনগণ তার নিজ নিজ মতামত প্রকাশ করবে। অবাধে রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠন সমাবেশ করতে পারবে। যে যার ধর্ম অবাধেই অনুসরণ করবে। জনগণ নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা ভোগ করবে। কিন্তু শাসক এলিটরা জনগণের সদিচ্ছাকে উপেক্ষা করে শক্তি প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করেন। ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতাসীন হলে পূর্বতন ‘বাকশাল’ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে অসাংবিধানিক সরকার জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে পদদলিত করে। সামরিক শাসকদের সাথে প্যাকেজ ডিলের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত পরবর্তী সরকারও সেই পথ অনুসরণ করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের অনিবার্য অঙ্গ- আইন, নির্বাহী ও বিচারবিভাগকে শতভাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে ক্ষমতাসীন সরকার। প্রণীত হতে থাকে একটির পর একটি কালাকানুন; ‘জুলুমের আইন’ তথা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট যার সর্বশেষ প্রমাণ। ক্ষমতাসীন সরকার পদ্ধতিগতভাবে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতন্ত্রকে ছলে বলে কলা কৌশলে অকার্যকর করে তোলে। ‘তাদের মন্ত্র, উন্নয়নের গণতন্ত্র’। তাদের দ্বারা রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।

সমাবেশের স্বাধীনতা অস্বীকৃত হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সঙ্কুচিত হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিপীড়িত হয়। সবচেয়ে সর্বনাশ সাধিত হয় জনগণের সম্মতি গ্রহণের ক্ষেত্রে। শাসকদল শক্তিকেই সম্মতির বদলে গ্রহণ করেছে। নির্বাচনব্যবস্থা এমনভাবে বিপর্যস্ত করা হয় যে, পৃথিবীর অন্য কোথাও এর উদাহরণ খুঁজে পাওয়া ভার। গণতন্ত্র উচ্ছেদের ব্যাপারে এই সরকার আগের সব সরকারের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, ক্রমেই শুকিয়ে আসছে পানি ভরা নদী। এখন সেখানে স্বাধীনতার নদীতে ধু ধু বালুচর।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্বাধীনতার সূচক নির্ণায়ক প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রিডম হাউজ’ সম্প্রতি বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে আটটি বিষয়ভিত্তিক একটি ব্যাপক পর্যালোচনা পেশ করা হয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছে- ১. নির্বাচনপ্রক্রিয়া; ২. রাজনৈতিক বহুত্ব এবং অংশগ্রহণ; ৩. সরকারের কার্যকারিতা; ৪. নাগরিক স্বাধীনতা; ৫. বাক ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা; ৬. সমাবেশ ও সংগঠনের অধিকার; ৭. আইনের শাসন ও ৮. ব্যক্তির অধিকার ও স্বাধীনতা।

ফ্রিডম হাউজ বাস্তব প্রমাণ ও তথ্যাদির ভিত্তিতে বিশদ বিবরণ প্রকাশ করে থাকে। এই সীমিত পরিসরে তার ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। তবে এটুকু বলা যায়, এই সূচকে বাংলাদেশের স্থান অনেক নিচে। গত পাঁচ বছরে অবস্থার উন্নতি না হয়ে বরং অবনতি হয়েছে। সূচক কমেছে আট পয়েন্ট। অপরদিকে সুইডেনের ভ্যারাইটিজ অব ডেমোক্র্যাসি নামক প্রতিষ্ঠান উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক দেশের ওপর যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতেও বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে; ১৭৯টি দেশের মধ্যে ১৫৪তম। এদের প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের অবস্থান বিগত ১০ বছরে ক্রমশ খারাপ হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত স্বৈরতন্ত্র বা ইলেক্টোরাল অটোক্র্যাসি বলে অভিহিত করা হয়েছে। সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকার যথাযথভাবে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক আচরণ যদি না করে তাহলে তাদেরকে এ অভিধা দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের এই সরকার গণতান্ত্রিকও নয়, নির্বাচিতও নয়। মানুষ মনে করে, জনগণের মৌলিক ভোটাধিকার হরণ করে ষড়যন্ত্র ও কারসাজির মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় অবস্থান করছেন। ফ্রিডম হাউজের সূচকের মতো এই প্রতিবেদনে যেসব বিষয় আলোচিত হয়েছে তা হলো- ক. সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা; খ. মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর হুমকি; গ. গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপ; ঘ. রাজনৈতিক বিরোধীদের অসম্মান করা; ঙ. মিথ্যা তথ্য ছড়ানো; চ. অবিশ^স্ত নির্বাচন। সুইডিশ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে এসব বিষয়ে প্রামাণ্য তথ্যাদি পেয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী স্বাধীনতা প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান সার্ক দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ। এর আগে রয়েছে ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার অবস্থান।

সরকারের এই অবস্থানের পাশাপাশি, নাগরিক অধিকারের জন্য সিভিল সোসাইটি বা নাগরিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যু এবং কার্টুনিস্ট কিশোরের আর্তি নাগরিক সাধারণকে বিচলিত করেছে। ছাত্রসমাজও মাঠে নেমেছে। আইনজীবীরা সীমিত হলেও তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। গত ১৩ মার্চ বুদ্ধিজীবীদের এক সভায় বলা হয়, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি এত ঠুনকো নয় যে, কার্টুন এঁকে বা হাস্যরসাত্মক ছড়া দিয়ে তা নষ্ট করা যাবে। বরং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাচারের ঘটনায় ভাবমূর্তি টেকে না। তারা বলেছেন, একটি দলের নিয়ন্ত্রণ গণতন্ত্র বা সমাজতন্ত্র নয়। শোভন সমাজে আমলাতন্ত্র থাকে না; বাকস্বাধীনতা থাকে। এতে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠী গণতন্ত্রকে ভয় পায়। এটি অশোভন সমাজের উদাহরণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে, সে যাতনা থেকে আপনি মুক্তি পেয়েছেন। এই মুক্তি যে অশোভন সমাজের প্রকৃতি তা বারবার বলার প্রয়োজন পড়ে না।’ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আমির উল ইসলাম বলেছেন, ‘কোভিড পরিস্থিতিতে মানুষের জীবনযাত্রায়, বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের ওপর বেশি প্রভাব পড়েছে। মানুষের আয় কমে গেছে। যে সমতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধে মানুষ প্রাণ দিয়েছিল, তেমন একটি সমতার সমাজ তৈরি করতে হবে। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘আধুনিকতা ও অনগ্রসরতা একসাথে চলতে পারে না। একজন মানুষ যদি সচেতনভাবে দেশ ও কালকে চিনতে না পারে, তবে সমকালে তার মূল্যায়ন হবে না। যে চিত্র বানোয়াট, তা কখনো টিকতে পারে না।’ এদিকে জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির এক সভায়ও বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নয়, বরং ডিজিটাল প্লাটফর্মে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন দরকার। সরকার অনেক ক্ষেত্রে কোনটি বিদ্বেষমূলক আর কোনটি মতপ্রকাশের অধিকার তা বুঝতে পারে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। সভায় ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস-আরএসএফ’-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সেলিম সামাদ বলেন, ‘এমন একটি আইন করা হয়েছে যা জনগণকে নয়. সরকারকে সুরক্ষা দেবে।’ মানুষকে ভয় দেখাতে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ। তার অভিযোগ, সরকার জুলুম জবরদস্তি করছে। মানুষের ওপর আক্রমণ করছে। এই জুলুমকে বৈধতা দিতেই তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছেন।

একটি জাতির জন্য ৫০ বছর কম সময় নয়। উপর্যুক্ত পর্যালোচনায় ওই সময়ের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ বিশ্বস্ত পরিচয় পাওয়া যায়। এটি কোনোক্রমেই গত ৫০ বছরে আমাদের স্বাধীনতার আশা-আকাক্সক্ষার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার উৎসই হচ্ছে গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্র মানেই জনগণের অধিকার। সময় সাবলীল গতিতে এগিয়ে চলে, সে চিন্তাও বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু ৫০ বছরের সুদীর্ঘ সময়ই জনগণের স্বাধীনতার যে স্বরূপ আমরা দেখলাম, তা নিশ্চিতভাবেই দুর্ভাগ্যজনক। তাই হয়তো ছড়াকার আবু সালেহ এর খেদোক্তি, ‘ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, বলা যাবে না কথা- রক্ত দিয়েই পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা’।

Comment As:

Comment (0)