No icon

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: বন্দর, পানি দেয়া হল সবই কিন্তু বাংলাদেশ পেলো কী?

শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদ্য সমাপ্ত ভারত সফর থেকে কি পেল বাংলাদেশ? আর দিলই বা কী? এমন প্রশ্ন আসছে ঘুরেফিরে। এ সফরকালে বাংলাদেশ যা দিয়েছে ভারতকে সেটি নিয়ে তুলকালাম কান্ড চললেও বিনিময়ে বাংলাদেশ কি পেলো তা একরকমের গোলক ধাঁধাঁর মতোই মনে হচ্ছে বিশ্লেষকদের কাছে। এ সফরকালে যে তিনটি বিষয় সবচে’ বেশি ‘ফোকাস’ পাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল বাস্তবে দেখা গেছে সেগুলো ছিল সবচে’ উপেক্ষিত। বিষয়গুলো হচ্ছে- তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি, ভারতের বহুল আলোচিত এনআরসি সংকট ও রোহিঙ্গা সংকট। এ তিনটির ক্ষেত্রে বলার মতো কোন কিছুই হয়নি এমনটাই মত বিশ্লেষকদের। সবমিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ সফর থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি নেই বললেই চলে, অথচ বাংলাদেশ ভারতকে দিয়েছে দু’হাত উজাড় করে। কোন কোন বিশ্লেষক মনে করেন, শুধু প্রাপ্তির বিচারেই নয়, এবারের এ সফর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্যও সম্ভবতঃ আগের সফরের মতো অতোটা প্রাণবন্ত বা উপভোগ্য ছিল না। বরং উল্টো কিছুটা বিব্রতকরও বটে।
৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে তিনটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলো হচ্ছে যৌথভাবে নির্মিত খুলনা ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ-ভারত প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ ভবন এবং বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি আমদানি প্রকল্প।
সাতটি সমঝোতা স্মারকে সই হয়। যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারিতে সহযোগিতা বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক, ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য ফেনী নদীর পানি সরবরাহ, চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে ভারতীয় পণ্য পরিবহনে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর ও বাংলাদেশকে দেয়া ভারতের ঋণের প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি। 
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের সবগুলোই ভারতের অনুকূলের বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, তিস্তার হিস্যা বাংলাদেশ বুঝে পায়নি কিন্তু ভারত ঠিকই ফেনী নদীর পানি নেয়া নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মানবিক কারণে এ পানি দেয়ার কথা বলা হলেও মূলতঃ ভারত চাপ দিয়েই পানি নিয়ে গেছে এমনটাই ধারণা পর্যবেক্ষকদের, কেন না কোন রকম চুক্তি ছাড়াই ভারত এ নদী থেকে আগেই পানি নেয়া শুরু করেছিল, বাংলাদেশ সে সময় তার কোন জোরালো প্রতিবাদ করেনি। তবে এই চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে সবচে’ স্পর্শকাতর ইস্যুটি হচ্ছে উপকূলীয় অঞ্চলে নজরদারি। এর মাধ্যমে মূলতঃ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ভারতের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চলে যাবে, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে চীনা স্বার্থও। যদিও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চীনের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চীন এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছে না বলে জানা গেছে।
তিস্তার সুরাহার নাম নেই ভারতকে দেয়া হল ফেনী নদীর পানি 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হয়নি উল্টো ভারতকে ফেনী নদীর পানি দিয়েছে সরকার। ফেনী নদী থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম শহরের জন্য প্রতিদিন ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি তুলে নেয়ার সুযোগ পেল ভারত। ১শ’ ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ফেনী নদী থেকে ভারতের পানি নেয়ার বিষয়টি দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনার টেবিলে ছিল কিন্তু পানি দেয়ার ব্যাপারে কোন চুক্তি হওয়ার আগেই ভারত বিভিন্ন সময় অনেকটা জোর করে ওই নদী থেকে পানি তুলে নিচ্ছিল। এ নিয়ে বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় সংবাদও ছাপা হয়েছে অনেক। 
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় যত দ্রুত সম্ভব ফেনীসহ মোট সাতটি নদীর পানি বণ্টনে চুক্তি দ্রুত করার ব্যাপারে দুই দেশ একমত পোষণ করে। অন্য নদ-নদীগুলো হচ্ছে মনু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে দুই সরকারের সম্মতি অনুযায়ী তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের জন্য তৈরি করা ‘ফ্রেমওয়ার্ক অব ইন্টেরিম অ্যাগ্রিমেন্ট’ আশু স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের জনগণ অপেক্ষায় রয়েছে- এ কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে প্রস্তাবিত তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরে ভারতীয় পক্ষ কাজ করছে। 
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ফেনী নদীর পানি হতে পারতো বাংলাদেশের দরকষাকষির একটি বড় হাতিয়ার। কিন্তু ‘মানবিক’ কারণের কথা বলে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে নিজের হাতের একটি ঘুঁটি ছেড়ে দিল। তারা অবশ্য সরকারের এমন আচরণে অবাক নন, তারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ সব সময়ই ভারতমুখো একটি দল, সুতরাং তারা ভারতকে দেয়ার ব্যাপারে ‘দিলদরিয়া’ হবে এটাই স্বাভাবিক। 
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের করা একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে একজন সাবেক কূটনীতিক বলেছেন, যে দেশে সরকার প্রধানের একজন উপদেষ্টা ট্রানজিট দেয়ার বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকে অর্থ নেয়াকে ‘অসভ্যতা’ মনে করে সে সরকারের দরকষাকষি করার সক্ষমতা আছে কি নেই সেটা বড় বিষয় নয়, বড় বিষয় হচ্ছে তাদের তা করার মতো ইচ্ছা আছে কি না? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ভারতের ক্ষেত্রে চিরায়ত সেই ‘দেবে আর নেবে মিলিবে মেলাবে’ এই নীতি অর্থাৎ ‘গিভ এন্ড টেক’ নীতি নয় একতরফাভাবে দেয়ার নীতি অনুসরণ করছে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই একবার বলেছিলেন ‘ভারতকে যা দিয়েছি সারা জীবন মনে রাখবে।’ গত বছরের ৩০ মে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি সে সময় আরো বলেছিলেন, তিনি কোন প্রতিদান চান না, প্রতিদানের কী আছে? আর কারও কাছে পাওয়ার অভ্যাস তার কম। দেয়ার অভ্যাস বেশি। ওই সংবাদ সম্মেলনও হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফর থেকে ফেরার পর।  
ভারত ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহার করলে তার প্রভাব কী হবে সে ব্যাপারে পানি বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারের বিষয়টি বাংলাদেশে খুব একটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে দাবি করেন। তার এ বক্তব্য নিয়ে তখন ব্যাপক হইচই হয়। কেউ কেউ তাকে তখন ভারতের দালাল বলেও আখ্যায়িত করেন। অবশ্য আইনুন নিশাতের বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি হিসেবে পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাবেক মহাপরিচালক প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক গণমাধ্যমকে বলেছেন- এটি আসলে অনেকগুলো নদীর একটি অববাহিকা। যেটা ফেনী জেলার এবং উজানে খাগড়াছড়ি জেলার মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হয়। তিনি বলেন, ফেনী নদীর পানি কমে গেলে এই উপনদীগুলোতেও পানিপ্রবাহ কমে যাবে। যার কারণে ফেনী নদীর সাথে এ অঞ্চলের মানুষের পাশাপাশি নদীর জীব-বৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়বে। 
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন এবং ঘুরেফিরে খালেদা জিয়ার কথা
৯ অক্টোবর গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি বলেন, কেউ যদি পান করার জন্য পানি চায় আর তা না দেয়া হয় তাহলে কেমন দেখায়? শেখ হাসিনা এ সময় স্বভাবসুলব ভঙ্গীতে বলেন- বাংলাদেশের কোনো স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করবে তা হতে পারে না। তিনি ফেনী নদীর পানি দেয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ত্রিপুরার সাবরুমে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হয়। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে বরাবরের মতোই খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন- খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে বলেছিলেন, ফারাক্কা চুক্তির কথা ভুলে গিয়েছিলেন। যারা গঙ্গার পানির কথা ভুলে যায়, তারা আবার ফেনী নদীর পানি নিয়ে কথা বলে। 
শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ই এ কথাটি বলেছেন, তাই অনেকে মনে করেন, এটির ব্যবহার নয়, অতি ব্যবহার করেছেন তিনি। একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বললেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার সবারই আছে, নিজের কাজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরাটাও স্বাভাবিক। কিন্তু নিজেকে ’নিরাপরাধ’ প্রমাণ করতে গিয়ে ৩০ বছর আগে কোথায় কে কি বলেছে সে কথা টেনে আনাটা খুবই দুর্বল যুক্তি, মানুষ এসব যুক্তিকে হাস্যকর বলে মনে করে। একজন রাজনীতি বিশ্লেষক বলেছেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় নেই ১৩ বছর ধরে, পক্ষান্তরে ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন শেখ হাসিনা। এই ১১ বছরে যতগুলো জনসভা আর সংবাদ সম্মেলন তিনি করেছেন সবগুলোতেই তিনি প্রাসঙ্গিক কিংবা অপ্রাসঙ্গিকভাবে টেনে এনেছেন খালেদা জিয়ার কথা, খালেদা জিয়া সরকারে নেই, সংসদে নেই, তাকে আটকে রাখা হয়েছে কারাগারে। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বয়ানে আছেন খালেদা জিয়া। এতে প্রমাণিত হয় খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে নির্বাসিত করার কৌশল কাজে আসেনি, এখনো শেখ হাসিনার একক ও একমাত্র প্রতিপক্ষ খালেদা জিয়াই। 
তিস্তা চুক্তি কেন হচ্ছে না, যা লিখেছেন সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রখ্যাত সাংবাদিক জয়ন্ত ঘোষাল এক নিবন্ধে তিস্তা চুক্তি না হওয়ার পেছনের কিছু কারণ তুলে ধরেছেন। এই সমস্যাটিতে বড় ধরণের জট মনমোহন সিং এর সময় লাগে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘প্রণব মুখোপাধ্যায়কে বাংলাদেশ তথা হাসিনা কার্যতঃ তাদের অভিভাবক মনে করেন। প্রণব বাবু চেয়েছিলেন ক্যাবিনেটে তিস্তা চুক্তি পাস করিয়ে নিতে। আলোচনা-টালোচনা পরে হবে। ক্যাবিনেটের নোট তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তখন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী ছিলেন মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য। তিনি আগের দিন রাতে খসড়া চুক্তির কথা দিদিকে জানান। দিদি সেই রিপোর্টটি শুনেই বলে দেন- এটার বিরোধিতা করতে হবে। এই চুক্তি আমরা মানছি না।’ 
দুই বন্দর ব্যবহার আর উপকূল নজরদারি করবে ভারত
চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করবে ভারত, সে অনুমতি তাদের দেয়া হয়েছিল ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময়, এবার সই হয়েছে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’। এই দুই বন্দর ব্যবহার করে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে সহজে ও কম খরচে পণ্য পাঠাতে পারবে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের আশংকা ভারত চট্টগ্রাম আর মোংলা বন্দর কতটা ব্যবহার করবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে এর মাধ্যমে এ বন্দর দু’টির কার্যকারিতা কমিয়ে আনার চক্রান্ত করতে পারে ভারত। যদি বন্দরের কোন নির্দিষ্ট অংশ ভারতের ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয় তাহলে ভারত পণ্য আনা নেয়া করুক আর নাই করুক ওই অংশটি বাংলাদেশ আর ব্যবহার করতে পারবে না। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের একজন খ্যাতিমান অধ্যাপক বলেছেন, ভারত আগে থেকেই বাংলাদেশের স্থলভাগের ওপর দিয়ে পণ্য আনা নেয়া করে, এখন তারা পাবে সমুদ্র বন্দর ব্যবহারের সুযোগ। কিন্তু এর বিপরীতে বাংলাদেশ কী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে বা কি লাভ হচ্ছে তা দৃশ্যমান নয়।
উপকূল পর্যবেক্ষণ করবে ভারত!
বাংলাদেশের উত্তর, পূর্ব আর পশ্চিম তিন দিকেই ভারত সীমান্ত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এবার কী দক্ষিণেও ভারতের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলো? উঠেছে এ প্রশ্নও। বাংলাদেশের উপকূলে পর্যবেক্ষণ করবে ভারত, এজন্য উপকূলীয় অঞ্চলে ২০টি রাডার বসাবে তারা। অনেকে বলেছেন, এর মাধ্যমে উপকূলে ভারতের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। বলা হচ্ছে বঙ্গোসাগরে চীনের প্রভাব কমানোর জন্যই বাংলাদেশের উপকূল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে ভারত। পর্যবেক্ষকরা বিস্ময়ের সাথে বলেছেন, চীন বাংলাদেশের ওপর কোন খবরদারিও করে না, কখনো অনুপ্রবেশও করে না, স্থলভাগ এমনকি সমুদ্রেও এটা করে থাকে ভারত, সেই ভারতকেই দেয়া হলো উপকূল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব! এ কার্যক্রম চীনের সাথে বাংলাদেশের বিশ^াস ও আস্থার সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, চীনের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রয়েছে, এ ব্যাপারে চীন কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায় তা জানার জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।
এনআরসি
গত কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতে যে ইস্যুটি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে তা হচ্ছে ভারতের এনআরসি ইস্যু। দেশটির আসাম রাজ্যে নাগরিকপঞ্জি করা হয়েছে। আরো কয়েকটি রাজ্যে করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে ভারতের বর্তমান হিন্দুত্ববাদী সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরকালে নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কথা হবে তা অনুমেয় ছিল। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসামে নাগরিক তালিকা তৈরির প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তখন জানান, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে এনআরসি প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রক্রিয়া যত দিন না শেষ হচ্ছে তত দিন বাংলাদেশের এ নিয়ে উদ্বেগের কোন কারণ নেই। মোদী বাংলাদেশকে যে অভয় দিয়েছেন তাতে বাংলাদেশ চিন্তামুক্ত হতে পারে না, কেন না তিনি বলেছেন, এ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের উদ্বেগের কিছু নেই। এ প্রসঙ্গে একজন সাবেক কূটনীতিক বলেছেন, মোদীর কথায় পরিষ্কার যে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ আছে, তবে ঘটনা ঘটবে এখন নয়, প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।
মানবিক সহায়তায়ই সীমিত রইলো রোহিঙ্গা ইস্যু
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের সহযোগিতা চান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দেশও চায় রোহিঙ্গারা দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসইভাবে ফিরে যাক। ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে মিয়ানমারের রাখাইনে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আবারও মানবিক সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগের কথাও জানান ভারতের সরকার প্রধান। 
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ যাদের ওপর একটু বেশিই ভরসা করে তার একটি হচ্ছে চীন আরেকটি ভারত। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে বিষয়টি উঠেছিল। সমর্থনে ভোট দিয়েছিল ৩৭টি দেশ। চীন যথারীতি বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে, আর ভারত ভোটদানে বিরত থেকেছে। একজন সাবেক কূটনীতিক বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্তত: ভারতের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করা উচিত নয়। 
ভারত সফরকালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম- ইন্ডিয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা বলেন, বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দেখা দিয়েছে। পরে সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী হেং সুয়ি কিটকেও একই কথা বলেন শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করেন সিঙ্গাপুরের উপ-প্রধানমন্ত্রী সে সময় তিনি এ সমস্যা সমাধানে সিঙ্গাপুরের সহায়তা কামনা করেন। 
পেঁয়াজ নিয়ে রসিকতা
৪ অক্টোবর দিল্লির মৌর্য্য হোটেলে এক অনুষ্ঠানে অনেকটা আকস্মিকভাবে ভারতের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে ভাষণের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা হিন্দিতে বলেন- হঠাৎ করে ভারত বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। আগে নোটিস দিলে বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে আনার ব্যবস্থা করতে পারতো। ভবিষ্যতে এমন কিছু করলে আগে জানিয়ে করলে ভাল হয়, এ সময় শেখ হাসিনা রসিকতা করে বলেন, তিনি বাসার রাধুনিকে রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাস্যোচ্ছলে এ কথা বললেও তাতে নাকি ভারত সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েই আমলে নিয়েছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা জারির আগে চুক্তিবদ্ধ সব পেঁয়াজই বাংলাদেশকে দেবে ভারত। জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা জারির আগে ভারত থেকে ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলা হয়েছিল। 
অনেকে মনে করেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সরকারকে চাপের মধ্যে রাখতে যত ধরণের কৌশল নেয়া প্রয়োজন ছিল শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের আগে তার সবই করেছে ভারত। এনআরসি ইস্যুর মানসিক চাপ তৈরি, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করা, গঙ্গা ব্যারেজের স্লুইস গেটগুলো খুলে দেয়া এসবই ছিল বাংলাদেশ সরকারের মনোযোগ অন্যদিকে বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে নিয়ে যাওয়া। ভারত এ ক্ষেত্রে সফল হয়েছে বলে মনে করা হয়। 
সেই সফর আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চমক
এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর কি কিছুটা গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল? এমন প্রশ্নও উঠেছে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ হয়েছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে দুই সরকার প্রধানের মধ্যে দুইবার সাক্ষাৎ আনুষ্ঠানিক বৈঠকের গুরুত্ব কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছিল বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
৩ অক্টোবর দিল্লি পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের নারী ও শিশুকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারত সফরে গেলে তাকে বিমান বন্দরে স্বাগত জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সে সময় শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর জন্য মোদীর বিমান বন্দরে যাওয়ার কোন কর্মসূচি ছিল না, কিন্তু পরে নরেন্দ্র মোদী নিজে গিয়ে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় অভিভূত শেখ হাসিনা তখন বলেছিলেন- এত বড় দেশের প্রধানমন্ত্রী, এত ব্যস্ততা তার। তারপরেও তিনি গেছেন। এতে প্রমাণ হয়, দু’দেশের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে।
ওই সফরের সময় ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর জন্য ধুতি ও পাঞ্জাবিও নিয়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। প্রণব মুখার্জীর মেয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন রাজশাহী সিল্কের শাড়ি। শুধু রাষ্ট্রপতির পরিবারই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ও তার পরিবারের জন্যও নানারকম উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সব মিলিয়ে ওই সফর ছিল অনেকটা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। ওই সফরের সময় শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে, অবশ্য তার প্রধান কারণ ছিল সে সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি ছিলেন প্রণব মুখার্জী, যার সঙ্গে বাংলাদেশের ছিল বিশেষ সম্পর্ক প্রণব মুখার্জীর শ^শুর বাড়ি বাংলাদেশে।
এবারের সফরকালে ৫ অক্টোবর ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেখ হাসিনা। সে সময় বাংলাদেশ সফরের জন্য ভারতের রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। একই দিন হোটেল তাজমহলে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেয়া হয় ঠাকুর শান্তি পুরষ্কার। ৬ অক্টোবর কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধীর কন্যা প্রিয়াংকা গান্ধীও ছিলেন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলে।
ইলিশ কূটনীতি!
বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচিত দীর্ঘদিন ধরেই। ২০১৭ সালে শেখ হাসিনা ভারত সফরকালে সে দেশের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে গিয়েছিলেন ৩০ কেজি ইলিশ। এবার শেখ হাসিনার সফরের আগে ভারতে রফতানি করা হয় ৫শ’ টন ইলিশ। প্রতি কেজি ইলিশের খুচরা মূল্য ধরা হয়েছিল ৫শ’ টাকা। সাধারণতঃ রফতানি পণ্য উন্নতমানের হয়, আর তার খুচরা মূল্যও একটু বেশিই হয়ে থাকে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে যে দামে ইলিশ পাঠানো হয়েছে বলা যায় এই ভরমৌসুমেও বাংলাদেশের বাজারে তার দ্বিগুণ দামেও ইলিশ পাওয়া যায় না। তবে এত ভর্তুকীমূল্যে ইলিশ পাঠালেও ভারতের মন যে খুব একটা জয় করা যায়নি তা প্রমাণিত হয়েছে, আকস্মিকভাবে তারা পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায়।
ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কম হওয়ায় তারা রফতানি নিষিদ্ধ করে। ভারতের এ যুক্তিকে খোঁড়া যুক্তি বলে মনে করছেন অনেকে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক কিংবা দ্বিপাক্ষিক ব্যবসার কতগুলো বৈশি^ক নিয়ম আছে, হুট করে কোন পণ্য রফতানি বন্ধ করা যায় না, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় আর ওষুধের মতো পণ্য মন চাইলেই সাথে সাথে রফতানি বন্ধ করা যায় না।
ইমরান খানের ফোন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগের দিন তাকে ফোন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাওয়ার ঠিক আগের দিন কেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ফোন করলেন তা নিয়ে অনেকের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ মনে করেন, কাশ্মীর ইস্যুসহ কিছু কিছু ক্ষেত্রে যাতে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশ একতরফাভাবে কোন অবস্থান প্রকাশ না করে সে জন্যই এক ধরনের মনস্তাত্বিক চাপ তৈরি করাই ছিল ইমরান খানের ওই ফোনের উদ্দেশ্যে। তারা বলেন, শুধুমাত্র চোখের চিকিৎসার খবর নিতে ইমরান খান শেখ হাসিনাকে এ সময়ে ফোন করেছেন তা বিশ্বাস করা কঠিন। তাছাড়া শেখ হাসিনার ভারত সফরের পরপরই পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চীন সফরের কর্মসূচি ছিল, বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্কের বিষয়টি সবারই জানা। সাবেক কূটনীতিকরা মনে করেন, ভারত চাইছে বাংলাদেশকে চীন বলয় থেকে বের করে আনতে। তবে নানা কারণে বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো কারণে বাংলাদেশের পক্ষে তেমন অবস্থানে যাওয়া কঠিন। কেন না, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যদি সত্যিই কোন কিছু করতে পারে তাহলে তা চীনই পারবে।
যা বলছেন বিশ্লেষকরা
শেখ হাসিনার এ সফর থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি হতাশাজনক, সেটি ফুটে উঠেছে সাবেক কূটনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের কথায়। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিষয়গুলো নিয়ে হয়তো আলোচনা হয়েছে কিন্তু যৌথ ঘোষণায় তার খুব একটা প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি বলেছেন, ভারতকে মানবিক কারণে ফেনী নদীর পানি ব্যবহারের সুযোগ দেয়া বাংলাদেশও ভারতের কাছ থেকে একই ধরনের মানবিকতা আশা করে। অন্ততঃ বাংলাদেশের যে বিষয়গুলি ঝুলে আছে সেগুলোর ব্যাপারেও ভারত সক্রিয় হবে এ প্রত্যাশা করা যায়। তিনি বলেছেন, ভারতের কাছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের চাওয়া তিস্তা নদীর পানি ভাগাভাগির ক্ষেত্রে চুক্তি নিয়ে কোন অগ্রগতি হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের যে জোরালো সমর্থন বাংলাদেশ আশা করে তা পাওয়া যায়নি। 
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন এক নিবন্ধে লিখেছেন, শীর্ষ পর্যায়ের সফরের আগেই দর-কষাকষি চলে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় থাকলে খসড়া বিনিময়, দূতদের যাতায়াত এসব নিয়ে খবর প্রকাশ থেকে জল্পনাকল্পনা চলতে থাকে। ফলে সফর শুরুর আগেই কী হতে যাচ্ছে তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের আগে এ ধরনের তৎপরতা তেমন দৃশ্যমান হয়নি। সফর ঘিরে প্রত্যাশাও তাই পাখা মেলেনি। তিনি আরো লিখেছেন- মানুষের যা চোখে পড়ছে তা হলো, যেসব বিষয়ে ভারতের স্বার্থ আছে অগ্রগতি হচ্ছে শুধু সেগুলোতেই, বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কোনো অগ্রগতি নেই। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু লেগেছে ফেনী নদী থেকে পানি প্রত্যাহারের বিষয়টি। তিস্তা তো বাদ পড়ে গেছেই, সফরের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ছোট ছোট কয়েকটি নদীর বিষয়ে একটি রূপরেখা চুক্তি, তারও কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। মাঝখানে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো এই ফেনী চুক্তি। 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর মতে, লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারতকে সবসময় শুধু দিয়েই গেছে। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। তার মতে, ভারত সবসময় চাপের মুখে রেখে সবকিছু আদায় করে নিয়েছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক রুকসানা কিবরিয়ার মতে, দুই বন্ধুরই তো সুযোগ সুবিধা সমান হতে হবে। এখানে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তিনি বলেন, জনগণ প্রশ্ন তুলতেই পারে, সরকার দেশের জন্য কী নিয়ে এলো? 
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৪ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশিত) 

Comment As:

Comment (0)