No icon

দিল্লিতে আজও সিএএবিরোধী বিক্ষোভ, নিহত বেড়ে ১৩

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধিতায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দিল্লিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার থেকে চলা এই বিক্ষোভে দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সোমবার পাথর ছোড়া, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং দোকানে দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লি। মঙ্গলবারও উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করে। মৌজপুরসহ উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। খবর এনডিটিভির

মৌজপুরে মঙ্গলবার সকালে একটি রিকশায় চলা যাত্রীদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তাদের জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আমরা উত্তর-পূর্ব দিল্লি থেকে ক্রমাগত সহিংসতার খবর পাচ্ছি।

সোমবার রাতে গোকুলপুরী এলাকায় একটি টায়ারের বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যে দিল্লির মন্ত্রী গোপাল রাই, ইমরান হুসেন এবং আম আদমি পার্টির অন্যান্য বিধায়করা গভীর রাতে লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজালের বাসভবনে যান। 

সোমবারই ভারত সফরে এসেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার সফরকালেই দিল্লিতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।

সরকারি সূত্রগুলি জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ভারত সফর করছেন এমন সময় দেশের রাজধানীতে এই ধরনের সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেই বলছে, এই ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সহিংসতার ঘটনায় আগাম সতর্কতা স্বরূপ দিল্লি সরকার উত্তর-পূর্ব দিল্লি জেলায় সমস্ত বেসরকারি এবং সরকারি স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি মেট্রো জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ এবং শিববিহার স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা, যার ফলে সেখানে কোনো বড় সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বিধায়ক এবং কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসছেন। তিনি টুইট করেছেন, 'দিল্লির কয়েকটি অঞ্চলের বর্তমান থমথমে পরিস্থিতি নিয়ে আমি খুব উদ্বিগ্ন। শহরে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সবারই একসঙ্গে চেষ্টা করা উচিত। আমি আরও একবার সবার প্রতি আবেদন করছি, দয়া করে হিংসা ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।'

Comment As:

Comment (0)