No icon

মুসলিম নির্যাতনে এশিয়ায় কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসলিমের বিরুদ্ধে নির্যাতন চালানোর খবরের প্রেক্ষাপটে এশিয়ায় ইসলামফোবিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ভারত।

ক্রমবর্ধমান ইসলামবিরোধী বাগাড়ম্বড়তা, বিদ্বেষপূর্ণ অপরাধ, মুসলিমদের অধিকার লঙ্ঘন, মহামারী বিস্তারের জন্য তাদেরকে দোষী করা, এবং এখন বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেয়ার জন্য ছাত্র ও অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা দেশটির গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্বব্যাপী দেশগুলো যখন ভাইরাসটি বিস্তার ঠেকাতে বন্দীদের মুক্তি দিচ্ছে, তখন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার অ্যাক্টিভিস্টদের গ্রেফতার করে কারাগারগুলো ভরছে।

ভারতভিত্তিক নিউজক্লিক ওয়েবসাইটের ভাষ্যানুযায়ী, কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে ২৫ মার্চ লকডাউন আরোপ করার পর থেকে মুসলিম সাংবাদিক, অ্যাক্টিভিস্ট ও ছাত্রদের বেআইনি কার্যক্রম প্রতিরোধ আইন ইউএপিএর কঠোর ধারার অধীনে আটক করা হচ্ছে। যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জামিয়া মিল্লিয়ার ছাত্র সফুরা জাফর, মিরন হায়দার, সাইফুর রহমান, জওহের লাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উমর খালিদ দও শারজিল ইমামের মতো ছাত্র। অধিকন্তু কাশ্মিরি সাংবাদিক মাসরাত জাহরা, গৌহার জিলানি, পিরজাদা আশিক, অ্যাক্টিভিস্ট খালিদ দসাইফি, ইসরাত জেহান, গুলিফিশা, কাওয়ালপ্রিত কাউর ও দিল্লি সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান জারাউল ইসলাম খান।

পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ এনেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, বিদ্বেষ প্রচারের ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মিরের সাংবাদিকেরাও একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ও সাংবাদিক হিসেবে নিয়মিত কার্যক্রমের জন্যও তাদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দিল্লি মাইনোরিটিস কমিশনের প্রধান জাফরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধেও ইউএপিএ-এর অধীনে মামলা করা হয়েছে। ভারতীয় মুসলিমদের পক্ষে কথা বলার জন্য টুইটারে কুয়েত সরকারকে ধন্যবাদ দেয়ায় দিল্লি পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

গত ৬ মে প্রকাশিত বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিলম্বে জারগার, হায়দার, রহমান ও খালিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে। গত ২২ এপ্রিল আরেকটি বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি কাশ্মিরি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ভারতীয় পুলিশ বাহিনীর পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে দমনের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে। মতপ্রকাশের অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে যারা কারারুদ্ধ হয়েছেন, তাদের মুক্তি দিতেও সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি গ্রুপ, দি ইন্ডিয়ান মুসলিম ফেডারেশন, শ্রী গুরু রবিদাস গ্লােবাল ইক্যুয়াল অর্গ্যানাইজেশনের মতো বিভিন্ন এনজিওও অ্যাক্টিভিস্টদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। ভারতীয় নিউজ ওয়েবসাইট দি ওয়্যার-এর মতে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা ও হুমকি সৃষ্টি করা সত্বেও বিজেপির রাজনীতিবিদ কপিল মিশ্র, পরেশ ভার্মা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং যাদের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

মুসলিমদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ওপর পিস্তল হাতে হামলাকারী মনিষ সিরোহির বিরুদ্ধে পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়। এতে প্রমাণিত হয়, শান্তিমূলক পদক্ষেপ কেবল মুসলিমদের বিরুদ্ধেই।

তাবলিগি জামাতের একটি ধর্মীয় সভাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিবিদ ও মিডিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক হামলা চালানো হচ্ছে, সামাজিক দুরত্ব বজায় না রাখা ও মহামারী বিস্তার করার জন্য তাদেরকে দায়ী করা হচ্ছে। অনেক স্থানেই মুসলিমদেরকে বাজার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মূলধারার অনেক টিভি চ্যানেল, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী, লেখক, সাংবাদিক মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছাড়াচ্ছে। ভারতের জাতীয় রাজধানী ২৩

ফেব্রুয়ারী থেকে ৫ দিন স্থায়ী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও দেখে। ভারতের অন্যতম ভয়াবহ ওই দাঙ্গায় পুলিশ ও একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৫১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। এছাড়া নাগরিকত্ব বিরোধী আন্দোলনে ভারতজুড়ে অন্তত ৭৯ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।

Comment As:

Comment (0)