No icon

সন্ত্রাসবাদ উস্কে দেয়ার অভিযোগ এনে জাতিসংঘে ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ করল পাকিস্তান

মঙ্গলবার জাতিসংঘের সেক্রেটারি-জেনারেল অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে “সন্ত্রাসবাদ” উসকিয়ে তোলার অভিযোগ তুলে একটি ডসিয়ের জমা দিয়েছে পাকিস্তান। এটি এমন এক সময় আসে যখন ঠিক এক দিন আগে পাকিস্তান থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চলে হামলার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে ভারত এবং কিছু জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের (ইউএনএসসি) সদস্যদের কাছে এই মর্মে একটি ডোসিয়ের প্রেরণ করে।

পদক্ষেপগুলি এমন এক সময় আসছে যখন ১ জানুয়ারি, ২০২১ থেকে দুই বছরের জন্য ১৫ সদস্যের কাউন্সিলে যোগদানের করতে যাচ্ছে ভারত।

পাকিস্তানের জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত মুনির আকরাম ভারতকে “সন্ত্রাসবাদ” স্পনসর করে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ ও সুরক্ষা কাউন্সিলের প্রস্তাবগুলি লঙ্ঘনের অভিযুক্ত করেন।

“পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি খেয়াল রাখতে এবং এই অবৈধ ও আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য ভারতকে বিরত রাখতে,” পাকিস্তান গুতেরেস ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ মাসের শুরুর দিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক মুখপাত্রের পক্ষ থেকে “ভারতের সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা” হিসাবে অভিহিত হওয়ার বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন এবং অভিযোগ করেছিলেন যে ভারত সরকার এবং তার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এবং জাতিগত বেলুচ সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের অর্থায়ন করে আসছে, যেন তারা পাকিস্তানি মাটিতে হামলা পরিচালনা করতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে এ জাতীয় অভিযোগের আদান-প্রদান এর আগে লক্ষ করা গেলেও, এবারের পাকিস্তানি অভিযোগগুলোর নির্দিষ্টতা সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। অভিযোগ ডোসিয়েরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অভিযুক্ত ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের নাম, কথিত সভার তারিখসমূহ, রেকর্ডকৃত ফোনালাপের অডিও ক্লিপ এবং ব্যাংক ট্র্যান্সফারের ডকুমেন্টেশন।

এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ভারতের মিশনের এক মুখপাত্র এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

“পাকিস্তান যতই চিল্লাচিল্লি করুক না কেন, তবে তারা এই সত্যটি পরিবর্তন করতে পারবে না যে তারা সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল,”মুখপাত্র বলেন। “তাদের মিথ্যাগুলোর কোন গ্রহণকারী নেই।”

জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টিএস তিরুমূর্তি “মিথ্যার ডসিয়ের” বলে অভিহিত করে বলেছেন যে এর একদম “শূন্য বিশ্বাসযোগ্যতা” আছে।

“নথিপত্রের কথা বলা এবং ভুয়া বিবৃতি ছড়িয়ে দেওয়া পাকিস্তানের পক্ষে নতুন কিছু নয়। তারা বিশ্বের বেশিরভাগ সংখ্যক জাতিসংঘের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের হোস্ট,” বলে টুইট করেছেন তিরুমূর্তি।

এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের কিছু সদস্যের কাছে কাশ্মির অঞ্চলে ইসলামাবাদকে “সন্ত্রাসবাদ” সমর্থনকারী অবহিত করে ভারতের ডোজিয়ের জমা দেওয়ার বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ভারত সোমবার জানিয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জয়েশ-ই-মুহাম্মদের অন্তর্ভুক্ত চার বিদ্রোহী গত সপ্তাহে একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে কাশ্মীরে প্রবেশ করে এবং তাদের ট্রাকটি তল্লাশির জন্য থামানো হলে গুলি চালায় তারা।

পাকিস্তান কথিত হামলায় কোনভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে এ অভিযোগের মাধ্যমে কাশ্মীরের জনগণের উপর ভারতীয় দমন-পীড়ন থেকে বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এসব অভিযোগ তোলা হয়।

Comment As:

Comment (0)