No icon

ইসরাইলের গোপন পারমাণবিক কার্যক্রম: পশ্চিমাদের দ্বৈতনীতি, ইরানের নিন্দা

আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে একতরফাভাবে বেরিয়ে যাবার এক বছর পর ইরান পাঁচ ধাপে সমঝোতার কিছু অংশ বাস্তবায়ন স্থগিত করে। কেননা ইরান যখন দেখলো যে ইউরোপ তাদের দেয়া অঙ্গিকারগুলো রক্ষা করতে পারছে না বিশেষ করে পরমাণু সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের স্বার্থ সুরক্ষা করতে পারছে না তখন তারা বাধ্য হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৯ সালের ৮ মে  থেকে সমঝোতার ২৬ এবং ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তেহরান কিছু কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখে।

ইরান এখন ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বেচ্ছায় পরমাণু সমঝোতার বাড়তি প্রটোকল বাস্তবায়নও স্থগিত করতে যাচ্ছে। "অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানী জাতির অধিকার রক্ষার কৌশলগত পদক্ষেপ" এর আওতায় ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তিনটি ইউরোপীয় দেশ-যারা পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে-তারা ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ইরানের বৈধ দাবী পূরণের ব্যাপারে কিছুই বলছে না।

তারই প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি টুইট করেছেন। ওই টুইট বার্তায় ড. জাওয়াদ জারিফ পরমাণু ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বৈত নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন: এই অঞ্চলে পারমাণবিক বোমা তৈরির একমাত্র কারখানা হলো ইসরাইলের দিমোনা। স্যাটেলাইট চিত্র ও আমেরিকার ফেডারেশন অফ সায়েন্টিস্টদের বক্তব্য অনুযায়ী ইসরাইল ওই দিমোনা পরমাণু অস্ত্রাগারের সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে। আমেরিকা ও ইউরোপ কিন্তু এ বিষয়ে অন্ধ নীতি অনুসরণ করে নীরব রয়েছে। তাদের যত উদ্বেগ ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে। সুতরাং তাদের মুখে উদ্বেগের কথা বেমানান।

আল-মায়াদিন নিউজ নেটওয়ার্কও দিমোনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পাওয়েল বুদভিগের বরাত দিয়ে এ সম্পর্কে লিখেছে: মনে হচ্ছে ২০১৯ সাল কিংবা ২০১৮ এর শেষ দিকে নেগেভ মরুভূমিতে ওই অবৈধ পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করেছে ইসরাইল। অথচ এই ইসরাইল আজও এনপিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নি। তথ্যমতে ইসরাইলের পারমাণবিক অস্ত্রাগার ডিমোনায় প্রায় নব্বুই টি ওয়ারহেড রয়েছে।

১৯৫০ এর দশকে ফরাসী সরকারের গোপন সহায়তায় ইসরাইল দিমোনা চুল্লির নির্মাণকাজ শুরু করে আর আমেরিকার সহযোগিতায় ওই চুল্লি সম্প্রসারিত হয়।

ড. জারিফ তাই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, আইএইএ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন এবং জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের নাম উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশ্যে  প্রশ্ন রাখেন: আপনারা কি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন? উদ্বিগ্ন? এমনকি একটুখানি? আপনাদের কি মন্তব্য করার অধিকার আছে? ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রশ্ন এখন শান্তিপ্রিয় গণতান্ত্রিক বিশ্বের সকল মানুষেরও।

Comment As:

Comment (0)