No icon

ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত

ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে কুড়িগ্রামের সীমান্তে গত রাতে সহিবর রহমান (৪০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাত ১টার দিকে রৌমারী উপজেলার কাউনিয়ারচর সীমান্তে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১০৫৪/২এস এর নিকট এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ  সদস্য মিজানুর রহমান ও এলাকাবাসী কয়েকজন জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সহিবরসহ একদল চোরাকারবারী গরু পারাপারের জন্য সীমান্তে গেলে ভারতের দ্বীপচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন সহিবর। পরে সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে তার শ্বশুর বাড়ি কাউনিয়ারচর নিয়ে যান। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে বিজিবি জামালপুর-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মুনতাসির মামুন বলেন, দাঁতভাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পের টহলদল বাইরে ছিল। এ সময় আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১০৫৪/২এস এর কাছে গুলির শব্দ শুনে  টহলদল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পায়নি। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বিজিবি কর্মকর্তা জানান,  বিএসএফের ছোড়া গুলিতে ওই যুবক নিহত হয়েছেন।

এর আগে গত সপ্তাহে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভারত সরকার সীমান্তে চোরাচালান ও বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিতর্কিত শ্যূট-অন-সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি বহাল রেখেছে। এর ফলে বিএসএফ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কারণে কিংবা অকারণে বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করতে পারে। ২০২০  সালে ৫২ বাংলাদেশিকে হত্যা, ২৭ জনকে আহত এবং সাত জনকে অপহরণের অভিযোগ রয়েছে  ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় আধা সামরিক বাহিনী বিএসএফ  সীমান্তে বসবাসকারী স্থানীয় বাংলাদেশী বেসামরিক নাগরিকদের নিয়মিত হুমকি দেয়, নির্যাতন করে,  আটক করে  এবং নির্যাতন করে থেকে। বাংলাদেশ ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার, অভিযোগ করেছে যে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের ধর্ষণ ও লুটপাটের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বিএসএফ-এর আচরণের পরিবর্তন এবং শ্যূট-অন-সাইট নীতি বাতিল করতে নতুন আদেশ পাঠাতে অঙ্গীকার করেছেন। তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারকারী বা পাচারকারীদের আটকাতে অহিংস উপায় অবলম্বনের  প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ভারতের এ সব অঙ্গীকার এখনোও বাস্তবে কার্যকর হয়নি

Comment As:

Comment (0)