No icon

মার্কিন মানবপাচার প্রতিবেদন নিয়ে ঢাকায় অস্বস্তি

মার্কিন মানবপাচার রিপোর্ট নিয়ে চরম অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে ঢাকা। সরকারের তরফে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে পরিস্থিতির উন্নতিকরণ এবং এটি দৃশ্যমান করার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। বাৎসরিক রুটিন মতে, আগামী  জুনে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট দেশওয়ারি বৈশ্বিক ওই রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে। সর্বশেষ (২০১৯) রিপোর্টে মানবপাচারে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল টায়ার-২ অর্থাৎ চরম ঝুঁকিতে। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছিল, অবস্থার পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশ টায়ার-৩-এ নেমে যাবে। আর অবনমন হলে প্রথম আঘাত আসবে মার্কিন সহায়তায়। যে সহায়তা বিশেষতঃ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য রবাদ্দ।

রোহিঙ্গা ছাড়া মার্কিন দাতব্য সংস্থা ইউএসএআইডির অন্য সহায়তাও প্রভাব পড়বে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার বিষয়ক বৈশ্বিক রিপোর্টকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সরকার তার মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা দেবে। পাশাপাশি এ নিয়ে ওয়াশিংটন নিজস্ব অনুসন্ধান চালাবে। দু’টো মিলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে বাংলাদেশের অবস্থা এবং অবস্থান নির্ধারিত হবে। বিগত রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ এবং বাংলাদেশ তার নিজস্ব তাগিদে মানবপাচার ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, জড়িত এজেন্টদের পাকড়াওয়ে অভিযান এবং জনসচেতনতায় ঢাকা ব্যাপক ভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপের অনেক কিছু পুরোপুরি দৃশ্যমান হতে আরও কিছু সময় লাগবে। মানবপাচার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত বিচারে দেশের প্রায় সব বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল স্থাপনসহ প্রশাসনিক অ্যাকশনগুলো ফাংশনিং বা কার্যকর হতে আরও ক’মাস লেগে যাবে। ময়মনসিংহ ছাড়া সব বিভাগীয় শহরে ট্রাইব্যুনাল হচ্ছে। এরইমধ্যে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গেছে। মার্চে বিচারকাজ শুরু করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে বাংলাদেশকে সেই সময়টুকু দিতে পারে এমন মন্তব্য করে এক কর্মকর্তা বলেন, দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগে বিষয়টি তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশের উদ্যোগ বা পদক্ষেপ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কমবেশি অবহিত। আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শেষ করে সব পদক্ষেপ দৃশ্যমান বা কার্যকর হতে যে সময় লাগছে সেটিই এখন আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় রাখছি। ঢাকার সদিচ্ছা রয়েছে পরিস্থিতির উন্নয়নে, এতে ব্যক্তি, প্রশাসন বা সরকারের কোন গাফলতি নেই দাবি করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ওয়াশিংটন চাইলে ঢাকাকে আরও এক বছর পর্যবেক্ষণে রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অনেক কিছুই ‘রাজনীতি’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় উল্লেখ করে অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, স্পর্শকাতর মানবপাচার ইস্যুতে নেয়া স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিদ্ধান্ত বা রিপোর্টে রাজনৈতিক বিবেচনা থাকবে না বলেই মনে করে ঢাকা। উল্লেখ্য, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মানবপাচার রিপোর্টকে এতটাই গুরুত্ব দেয় যে রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন এবং বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে তিনি তার মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

Comment As:

Comment (0)