No icon

ভারতীয় অতিরিক্ত পানির ঢলে বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে তিস্তায় পানির শ্রোত

নিজস্ব প্রতিনিধি
ভারত উজানে তাদের বাঁধের গেইট খুলে দেয়া অতিরিক্ত ঢলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীতে পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকেই পানির শ্রোত বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিপদসীমা অতিক্রম করে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে আবারো বণ্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তিস্তার ভাটি অঞ্চলে।

শুকনা মওসুম এলে ভারত উজানে পানি আটকে দেয়। আর বর্ষায় পানি ছেড়ে দিয়ে বণ্যায় ভাসিয়ে দেয় তিস্তা অববাহিকা। এতে তিস্তা অববাহিকার মানুষ চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতকে শুধু দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময়ে তিস্তায় পানির কোন সুরাহা করতে সক্ষম হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডালিয়া) সূত্র জানায়, উজানের ঢলে বুধবার সকাল থেকে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ১২ সেন্টিমিটার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ৯টায় তা আরো ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জানা গেছে, তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার নদীবেষ্টিত খগাখড়িবাড়ী, পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছচাপনী, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার পরিবারের বসতবাড়ি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ঝুনাগাছচাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ভেন্ডাবাড়ী ও ফরেস্টের চরের ৫ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকেছে। কোথাও হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে এসব পরিবারের বসতভিটা।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় তার ইউনিয়নের আটটি গ্রাম বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটের সবগুলো খুলে রাখা হয়েছে।

Comment As:

Comment (0)