No icon

বাংলাদেশে ক্রসফায়ার নামের বিচার বহির্ভূত হত্যার জনক শেখ মুজিবের প্রথম ভিক্টিম সিরাজ সিকদার।

স্বাধীন বাংলাদেশে ক্রসফায়ার নামের বিচার বহির্ভূত হত্যার জনক শেখ মুজিবের প্রথম ভিক্টিম মেধাবী কমিউনিস্ট নেতা শহীদ কমরেড সিরাজ সিকদার।

'সাম্য', 'মানবিক মর্যাদা', ও 'সামাজিক ন্যায্যতা' - এই তিন মূলনীতি ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় প্রত্যয়ে লাখো মনুষের রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীন রাষ্ট্রে মানুষ গুম করার জনক ১৯৭৫ সালের আজকের এই দিনে উপহার দিয়েছিলেন ডোবায় পড়ে থাকা সিরাজ সিকদারের গুলিবিদ্ধ লাশ। গ্রেপ্তারের পর সরকারী খুনে বাহিনীর প্রচারিত গল্পের ধরণও ছিলো এখনকার মতোই! বাংলাদেশে যিনি ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার বীজ বপন করেছিলেন, সেই মহামানবকে আজকের বাস্তবতায় স্মরণ করা অপরিহার্য্য!

এটা ঠিক যে, স্বাধীনতার পর যে দুটি দল মুজিব সরকারকে চরম বিপাকে ফেলছিলে তার মধ্যে সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টি অন্যতম। আরেকটি দল হচ্ছে জাসদ। তবে সরকারের দমন নীতি জাসদের তুলনায় সর্বহারা দলের উপরই ছিল বেশি তীব্র। সিরাজ সিকদার নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন শেখ কামালও।

২ জানুয়ারিতে নিহত সিরাজ সিকদারের শরীরে পাঁচটি গুলির দাগ পাওয়া যায়। ময়না তদন্তে জানা যায়, ৪টি গুলি সিরাজ সিকদারের দেহ ভেদ করে চলে যায়। এবং একটি গুলি ফুসফুসের পাওয়া যায়। পত্রিকায় সিরাজ সিকদারের স্ত্রী কন্যাসহ তার সকল কর্মকাণ্ড প্রকাশ করা হলেও রহস্যজনক-ভাবে মুক্তিযুদ্ধে সিরাজ সিকাদের ভূমিকার কথা পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়নি। ১৯৭৫ সালে সিরাজ সিকদারের বয়স ছিল প্রায় ত্রিশ বছর।

ভিন্ন মত থাকবেই । পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও ভিন্ন মত থাকে সেখানে রাষ্ট্রতো অনেক বড় । ভিন্নমতালম্ভীদের শেষ ঠিকানায় রাষ্ট্র যদি পাঠিয়ে দেয় সেই রাষ্ট্রর মতো বর্বর রাষ্ট্র পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কের ইতিহাস হয়ে থাকে ।

এই হত্যার পরে শেখ মুজিব দম্ভভরে বলেছিলেন, 'কোথায় আজ সিরাজ সিকদার?'

তিনি আমাদের হৃদয়ে, স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রেরণা হয়ে বেঁচে আছেন। বীরেরা মরেনা। শহীদের মৃত্যু নেই, তারা মৃত্যুহীন।
 

Comment As:

Comment (0)