No icon

পুরো জাতি ইন্ডিয়ার প্রতি নতজানু অবস্থায় আত্মসমর্পণ

খবরের কাগজ গুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী সীমান্ত হত্যা উদ্বেগজনক ও আশঙ্কাজন বেড়েছে! গত এক সপ্তাহে ৭জনকে খুন করেছে হানাদার বিএসএফ (ইন্ডিয়ান সীমান্ত রক্ষাবাহিনী)। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া এটাই হয়ত দুনিয়ার কোন সীমান্তে সপ্তাহের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি হত্যাকন্ড। দুনিয়ার কোন সীমান্তে প্রতিবেশীর আক্রমনে এমন খুনের ঘটনার নজির নেই বললেই চলে! এমনকি চির বৈরী ফিলিস্তিন-ইসরাইল সীমান্তেও এত খুনের ঘটনা ঘটে না।
কতটা নতজানু জাতি হলে প্রতিবেশীর দ্বারা এত খুনের ঘটনায় নীরব থাকা যায়? এ প্রশ্নের উত্তর নির্ণয় করতে হয়ত রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরো জাতি ইন্ডিয়ার প্রতি নতজানু অবস্থায় আত্মসমর্পণ করেছে। এটা প্রমানের জন্য সীমান্তে খুনের ঘটনার পর নীরবতাই সবচেয়ে বড় প্রমান। সপ্তাহের ব্যবধানে রেকর্ড সংখ্যক খুনের ঘটনা ঘটেছ। অথচ কোন রকমের প্রতিক্রিয়া নেই রাজনৈতিক, সামাজি বা বুদ্ধিজীবী মহলে! বুঝলাম, ক্ষমতাসীনরা দেশকে ইজারা দিয়েছে প্রতিবেশীদের কাছে! কিন্তু প্রতিবেশী হানাদারদের আক্রমণ থেকে নাগরিকদের রক্ষায় বিরোধী জোটের ভুমিকা কি? সরকারি জোট এবং বিরোধী জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল গুলোর মাঝেও কোন প্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে। এতে প্রমান করে সবাই মিলে কেউ নীরবে, কেউ সরবে আত্মসমর্পণ করেছে ইন্ডিয়ায়।
সুবিধাবাদ, দালাল বুদ্ধিজীবী চেতনাজীবীরাই বা কোথায়! দেশের ভেতরে সামান্য কোন ঘটনায় একদল দালাল, সুবিধাবাদী তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর চেতনার দন্ড তো অল্পতেই উত্তেজিত হয়ে উঠতে দেখা যায়। কথায় কথায় তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জিকির শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা করে তখন। সীমান্তে হানাদার বিএসএফ কতৃক এত খুনের ঘটনায়ও কি তাদের চেতনাকে স্পর্শ করে না?! এ কেমন মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার চেতনা! নাকি ইন্ডিয়ান দালালীর অপর নাম হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?
এখানে উল্লেখ্য ইন্ডিয়ার আরেক প্রতিবেশী নেপাল। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে নেপাল সীমান্তে গোবিন্দ গৌতম নামক একজনকে হত্যা করেছিল ইন্ডিয়ান বিএসএফ। এতেই গোটা নেপাল জুড়ে মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। নিহতের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। নেপালের মানুষের বিক্ষোভের মুখে ইন্ডিয়ান তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অফিসিয়ালি দু:খ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
পাকিস্তান সীমান্তে একজনকে খুন করলে পাল্টা ৩টা খুনের ঘটনা ঘটে। ভুটানের সীমান্তে খুনের কোন রেকর্ড নেই।
প্রশ্ন হচ্ছে তাইলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ এত খুনের সাহস পায় কোথায়???
এর উত্তর একটাই, ইন্ডিয়ার প্রতি রাজনৈতিক দল গুলোর নতজানু নীতি! পাশাপাশি ইন্ডিয়া প্রীতির মুক্তিযুদ্ধের চেতনা! বুদ্ধিজীবী নামধারি দালাল ও সুবিধাবাদীরা ইন্ডিয়ায় মাথা বিক্রি করেছে। গণমাধ্যম গুলোর বেশিরভাগই ইন্ডিয়ান স্বার্থ রক্ষায় তৎপর থাকতে দেখা যায়। গণমাধ্যমের চরিত্র দেখলেই মনে হয় ইন্ডিয়ান স্বার্থ রক্ষার্থেই তাদের জন্ম হয়েছে বাংলাদেশে!
ইন্ডিয়ান বিএসএফ কতৃক খুনের ঘটনার একটি হিসাব সম্প্রতি সংসদে পেশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দেয়া হিসাবে দেখা যায়, গত ১০ বছরের মধ্যে ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি খুন করেছে বিএসএফ। সরকারি হিসাবে ২০১৯ সালে বিএসএফ কতৃক খুনের ঘটনা ৩৫জন। বেসরকারি হিসাবে ৪৩জন। গত ১০ বছরের মধ্যে কোন সনেই ৪৩জন নিহতের ঘটনা ঘটেনি। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থাপিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে ৩ জন। এছাড়া ২০১৭ সালে ১৭ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারীতে গত এক সপ্তাহেই খুন হয়েছেন ৭ জন!
ইন্ডিয়ান হানাদার বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় রুখে দাড়ানোর দায়িত্ব হচ্ছে রাজনীতিকদের। এছাড়া সীমান্ত সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্বে দেশের নাগরিকদের ট্র্যাক্সের টাকায় বিভিন্ন বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। সীমান্তে প্রতিবেশীদের আক্রমণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে না পারলে জনগনের টাকায় লালিত-পালিত এসব বাহিনীরই দরকার কি?!

 

অলিউল্লাহ নোমান (আমারদেশ )
Comment As:

Comment (0)