No icon

মৃত ব্যক্তির জন্মদিন পালনের জন্য রাষ্ট্রীয় ১০০ কোটি টাকা অপচয় করা কতটুকু যুক্তিসম্মত?

যে দেশের সাড়ে সাতকোটি মানুষ এখানো ঠিক ভাবে খেতে পায়না, তিন কোটি মানুষের নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই! যে দেশে আজও দু'টাকার জন্য সারাদিন পথে ঘোরে অসহায় মানুষ, যে দেশে শীত থেকে বাঁচতে আজ-ও একটি কম্বল ও গরম পোশাকের জন্য মানুষ লাইন দিয়ে দাড়িয়ে থাকে,ছোট শিশুগুলো ডাস্টবিন থেকে খাবার টকিয়ে খায়, সে দেশে মৃত ব্যক্তির জন্মদিন পালনের জন্য রাষ্ট্রীয় ১০০ কোটি টাকা অপচয় করা কতটুকু যুক্তিসম্মত?

আমি এখানে কাউকে ছোট করছি না। আপনি ভাবুন অসহায় মানুষ না খেয়ে, পথে-ঘাটে ঘুমায় অথচ সালমান,সনু ও ক্যাটরিনা দেশে এসে লাফিয়ে ঝাপিয়ে কোটি টাকা আমার দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যায়। এতে কী দেশ ও দেশের মানুষের লাভ হলো না শতবর্ষী আত্মার লাভ হলো? তার জন্মদিনে দোয়া কুরআন খতম না করে, বেহায়াপনা অশ্লীলতা নাজায়েজ কাজ করে ১০০কোটি সরকারি ও বেসরকারি যে যত খরচ করতে পারে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী!

দেশ যখন দারিদ্র্য সীমার নিচে পরে আছে, তখন দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখিয়ে বলা হয় বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল! কতই না গর্দভ আমরা। আমরা মনে করি আমরা খাচ্ছি -ঘুমাচ্ছি দেশ তো ভালোই চলছে। কিন্তু কি আসলেই তাই? গণতন্ত্রহীন দেশে দরিদ্র্য মানুষের যাতনা কি আপনি চক্ষু মিলিয়ে দেখেছেন? দেখেন নাই তাই বোধহয় সুকান্ত ভট্টাচার্য্য বলেছেন, "ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি"
আসলেই তাই শতকোটি টাকা গোল্লায় দেওয়া যায় অথচ এই টাকাগুলো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ব্যয় করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মা শান্তি পেতেন। তা করবে না,তারা পথে-মোড়ে বিদ্যুৎ অপচয় করে ডিজিটাল পর্দা লাগিয়ে মানুষকে জোর করে দেখানো হচ্ছে শতবর্ষী আত্মার আবির্ভাব।

এই তো চলছে ব্যক্তি কেন্দ্রীক রাজনীতি, পূজাতান্ত্রিক মহড়া। সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলের হাল ধরে দেধারচ্ছে চলছে পূঁজিবাদীর রাজনীতি। আমরা গর্দভেরা না বুঝে শুধু দলাদলি করে দেশটাকে নাগেশ্বরী শ্মশান বানিয়ে ফেলবো,তারপর সবাই মিলে ভারতের গোলামী করবো। এইতো আর কী? এর পর যদি কেউ এই লেখা নিয়ে দ্বিমত পোষন করে বিতর্ক করেন তাহলে বুঝে নিবো আপনার রক্তে সমস্যা আছে।

শামিম হোসাইন তাহমিদ

Comment As:

Comment (0)