No icon

আক্রান্ত না কমলে করোনায় মৃত্যুপুরী হবে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ এখন করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করেছে এবং আগামী আরো কিছুদিন এই সংক্রমণের হার বাড়ার পর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। তবে কতদিন বাড়বে এবং কতদিনে কমবে সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা কোন প্রক্ষেপণ করতে পারছে না বা প্রক্ষেপণ করতে রাজি নয়। এক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে, বাংলাদেশে যে পরিস্থিতিতে করোনা সংক্রমণ চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে, সেই রকম পরিস্থিতি অন্য কোন দেশে ছিল না। কারণ বাংলাদেশে নবম সপ্তাহ থেকে করোনা সংক্রমণ পিকের দিকে উঠতে থাকে। আর সেই সময় আমরা আমাদের কলকারখানাগুলো খুলে দেই। দশম সপ্তাহে এসে প্রতিদিন করোনা শনাক্তের সংখ্যা নতুন নতুন রেকর্ড স্থাপন করছিল, অথচ সেই সময়ে আমরা সীমিত আকারে দোকানপাট খুলে দিয়েছি এবং ঢাকা শহরের রাস্তাঘাটগুলো প্রায় উন্মুক্ত হয়ে গেছে। আর একাদশ সপ্তাহে এসে এখন দেশে করোনার সংক্রমণ যেমন বাড়ছে, তেমনি লোকজন আর ঘরে নেই; ঘর থেকে তারা বের হয়ে সব ধরণের কাজই করছেন। ঢাকা শহর পুরনো চেহারায় ফিরে এসেছে, একমাত্র গণপরিবহন ছাড়া সবকিছু চলছে। ফলে করোনা সংক্রমণের মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, করোনায় বাংলাদেশের সবথেকে বড় হটস্পট হচ্ছে ঢাকা মহানগরী এবং ঢাকায় সামাজিক সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এখন সামাজিক দূরত্ব না মানা, ঘরে না থাকার কারণে এই সংক্রমণের হার ঢাকায় আরও বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকরা মনে করছেন যে, একটি দেশে বা অঞ্চলে যখন করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছে তখন লকডাউন ছাড়া কোন বিকল্প নেই। অথচ আমরা কার্যকর লকডাউন করতে পারছি না। যার ফলে আমাদের সর্বোচ্চ সীমা অনেক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কারণ যারা আক্রান্ত তারা অন্যদের সংস্পর্শে এসে সংক্রমিত করতে পারে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সামাজিক দূরত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনুসরণ না করবো ততক্ষণ পর্যন্ত সংক্রমণের হার বাড়তেই থাকবে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও এই কথা একাধিক বক্তৃতায় বলেছেন যে, সামাজিক দূরত্ব না মানার কারণে, দোকানপাট খুলে দেওয়ার কারণে সংক্রমণের হার বাড়ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই দোকানপাট বন্ধ না হবে এবং অন্তত ১৪ দিন লক ডাউন বা কঠোর ছুটি পালন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, আর দুই-তিন দিন পরেই আবার কঠোর ছুটিতে যাবে। বিশেষ করে বৃহস্পতিবার থেকে ২৮ বা ৩০ মে পর্যন্ত সরকার লোকজনের ঘর থেকে বের হওয়ার উপরে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে চায় বলে জানা গেছে। এরকম পরিস্থিতি হলে হয়তো বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ সীমা থেকে আস্তে আস্তে নামতে শুরু করবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই প্রসঙ্গে একটি ভয়ঙ্কর তথ্য দিতে চান। তারা মনে করেন, যদি আমরা আক্রান্তের সংখ্যা না কমাতে না পারি, তাহলে আমাদের মৃত্যুর সংখ্যা কমবে না। কারণ এখন আমাদের মৃত্যুর সংখ্যা কম বলে আমরা যে আত্মতুষ্টি করছি, তা চুরমার হয়ে যাবে যদি আমরা আক্রান্তের সংখ্যা না কমাতে পারি।

আমাদের চিকিৎসকরা বলছেন যে, আক্রান্ত যখন বাড়বে, তখন সাথে সাথে জটিল রোগীর সংখ্যা বাড়তে বাধ্য এবং জটিল রোগীর সংখ্যা যখন বেশি হবে তখন মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে। কাজেই আমরা যদি মনে করে থাকি যে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও আমাদের কোনো ক্ষতি নেই যদি মৃত্যুর সংখ্যা না বাড়ে- তাহলে আমরা একটি ভুল সিদ্ধান্ত নেব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা মনে করছেন যে, বাংলাদেশকে যদি মৃত্যুপুরী না বানাতে চাই আমরা, তাহলে আমাদেরকে আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত রাখতেই হবে। আক্রান্তের সংখ্যা যদি সীমিত না থাকে তাহলে বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

প্রশ্ন হলো যে, আক্রান্ত সীমিত আকারে রাখা যায় কত জন হলে? এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে প্রক্ষেপণ করেছে, সেই প্রক্ষেপণ অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনায় সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ হাজার যদি রোগী থাকে, তাহলে সেই পরিস্থিতিকে সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কিন্তু এর বেশি হলে সেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের এখন যে পরিস্থিতি তাতে মনে করা হচ্ছে যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রক্ষেপণের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এরকম যদি পরিস্থিতি হয় তাহলে দ্রুতই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং মৃত্যুও আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই এখন এই করোনার পিক সিজনে অন্তত কিছুদিনের জন্য সবকিছু বন্ধ দিয়ে আক্রান্তের সংখ্যার লাগাম টেনে ধরতে হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Comment As:

Comment (0)