No icon

কারা টাকা-পয়সা পাচার করছে

গত ২৬ জুন যুগান্তরের এক নম্বর সংবাদের শিরোনাম ছিল- ‘সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড় : সঞ্চয় ৫৪২৭ কোটি টাকা’। ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের’ এক প্রতিবেদন থেকে রিপোর্টটি করেছেন মনির হোসেন।

<iframe frameborder="0" height="250" id="google_ads_iframe_/21711891156/jg_desktop_content_square_0" name="google_ads_iframe_/21711891156/jg_desktop_content_square_0" scrolling="no" title="3rd party ad content" width="300"></iframe>

 

কয়েক বছর আগে হলে এ সংবাদটি পড়ে হতভম্ব হয়ে যেতাম। এখন আর হইনি। কারণ, আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠান; এমন কী ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকও’ নিয়মিতভাবে টাকা পাচারের ওপর নানা তথ্য প্রকাশ করে।

এর মধ্যে আছে ‘গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)’, রয়েছে পানামা পেপারস ইত্যাদি। এসবে শুধু বাংলাদেশিদের খবর থাকে না, নতুন ধনী প্রায় সব দেশের খবরই থাকে। পড়ে পড়ে এখন আফসোস করি- কীভাবে গরিব একটা দেশ, বাংলাদেশের টাকা নিয়মিতভাবে পাচার হয়ে বিদেশি ব্যাংকে জমা হচ্ছে।

এসব পড়ে আবার জানতে ইচ্ছা করে, কারা এরা? দেশ খালি করে সব টাকা পাচার করে দিচ্ছে! এত টাকা তারা পাচ্ছে কোথায়? কীভাবে এসব টাকা পাচার করছে- কী পথে বিদেশে নিচ্ছে টাকা?

পাচারকৃত টাকার সম্ভাব্যস্থল কোথায়? সেখানে এত আইন-বিধিবিধান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নিরাপদে টাকা রাখা যাচ্ছে? কেন, কী কারণে তারা দেশের সম্পদ পাচার করছে? সর্বোপরি, এসব পাচারকৃত টাকা কি উদ্ধার করে দেশে আনা সম্ভব?

অনেক প্রশ্ন, অনেক উত্তর। কিছু প্রশ্নের জবাব আছে, কিছু প্রশ্নের জবাব নেই। জবাব আছে কোন শ্রেণির লোক টাকা পাচার করছে তার ওপর, এমনকি কিছু কিছু নাম-ধামও পাওয়া যায়। যদিও বর্তমান রিপোর্টে দেশের কথা থাকলেও নাম-ধাম নেই। দেখা যাচ্ছে, এ বিষয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব একবার মুখ খুলেছিলেন (যুগান্তর, ১৯.০২.২০)। তার কথায় ‘যারা বিদেশে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট বানাচ্ছেন- এটা সম্পূর্ণ চুরি করেই করছেন।’

এর অর্থ হচ্ছে, যারা টাকা পাচার করছেন, তাদের ওই টাকা চুরি করা টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এ টাকা কোথা থেকে চুরি করছেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত একটি খবর থেকে বোঝা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা লুট হচ্ছে। ওই বছরের বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ উইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে।

গত ২৬ জুন যুগান্তরের এক নম্বর সংবাদের শিরোনাম ছিল- ‘সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড় : সঞ্চয় ৫৪২৭ কোটি টাকা’। ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের’ এক প্রতিবেদন থেকে রিপোর্টটি করেছেন মনির হোসেন।

<iframe frameborder="0" height="250" id="google_ads_iframe_/21711891156/jg_desktop_content_square_0" name="google_ads_iframe_/21711891156/jg_desktop_content_square_0" scrolling="no" title="3rd party ad content" width="300"></iframe>

 

কয়েক বছর আগে হলে এ সংবাদটি পড়ে হতভম্ব হয়ে যেতাম। এখন আর হইনি। কারণ, আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠান; এমন কী ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকও’ নিয়মিতভাবে টাকা পাচারের ওপর নানা তথ্য প্রকাশ করে।

এর মধ্যে আছে ‘গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)’, রয়েছে পানামা পেপারস ইত্যাদি। এসবে শুধু বাংলাদেশিদের খবর থাকে না, নতুন ধনী প্রায় সব দেশের খবরই থাকে। পড়ে পড়ে এখন আফসোস করি- কীভাবে গরিব একটা দেশ, বাংলাদেশের টাকা নিয়মিতভাবে পাচার হয়ে বিদেশি ব্যাংকে জমা হচ্ছে।

এসব পড়ে আবার জানতে ইচ্ছা করে, কারা এরা? দেশ খালি করে সব টাকা পাচার করে দিচ্ছে! এত টাকা তারা পাচ্ছে কোথায়? কীভাবে এসব টাকা পাচার করছে- কী পথে বিদেশে নিচ্ছে টাকা?

পাচারকৃত টাকার সম্ভাব্যস্থল কোথায়? সেখানে এত আইন-বিধিবিধান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নিরাপদে টাকা রাখা যাচ্ছে? কেন, কী কারণে তারা দেশের সম্পদ পাচার করছে? সর্বোপরি, এসব পাচারকৃত টাকা কি উদ্ধার করে দেশে আনা সম্ভব?

অনেক প্রশ্ন, অনেক উত্তর। কিছু প্রশ্নের জবাব আছে, কিছু প্রশ্নের জবাব নেই। জবাব আছে কোন শ্রেণির লোক টাকা পাচার করছে তার ওপর, এমনকি কিছু কিছু নাম-ধামও পাওয়া যায়। যদিও বর্তমান রিপোর্টে দেশের কথা থাকলেও নাম-ধাম নেই। দেখা যাচ্ছে, এ বিষয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব একবার মুখ খুলেছিলেন (যুগান্তর, ১৯.০২.২০)। তার কথায় ‘যারা বিদেশে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট বানাচ্ছেন- এটা সম্পূর্ণ চুরি করেই করছেন।’

এর অর্থ হচ্ছে, যারা টাকা পাচার করছেন, তাদের ওই টাকা চুরি করা টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এ টাকা কোথা থেকে চুরি করছেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত একটি খবর থেকে বোঝা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা লুট হচ্ছে। ওই বছরের বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ উইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে।

গত ২৬ জুন যুগান্তরের এক নম্বর সংবাদের শিরোনাম ছিল- ‘সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকার পাহাড় : সঞ্চয় ৫৪২৭ কোটি টাকা’। ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের’ এক প্রতিবেদন থেকে রিপোর্টটি করেছেন মনির হোসেন।

<iframe frameborder="0" height="250" id="google_ads_iframe_/21711891156/jg_desktop_content_square_0" name="google_ads_iframe_/21711891156/jg_desktop_content_square_0" scrolling="no" title="3rd party ad content" width="300"></iframe>

 

কয়েক বছর আগে হলে এ সংবাদটি পড়ে হতভম্ব হয়ে যেতাম। এখন আর হইনি। কারণ, আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠান; এমন কী ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকও’ নিয়মিতভাবে টাকা পাচারের ওপর নানা তথ্য প্রকাশ করে।

এর মধ্যে আছে ‘গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)’, রয়েছে পানামা পেপারস ইত্যাদি। এসবে শুধু বাংলাদেশিদের খবর থাকে না, নতুন ধনী প্রায় সব দেশের খবরই থাকে। পড়ে পড়ে এখন আফসোস করি- কীভাবে গরিব একটা দেশ, বাংলাদেশের টাকা নিয়মিতভাবে পাচার হয়ে বিদেশি ব্যাংকে জমা হচ্ছে।

এসব পড়ে আবার জানতে ইচ্ছা করে, কারা এরা? দেশ খালি করে সব টাকা পাচার করে দিচ্ছে! এত টাকা তারা পাচ্ছে কোথায়? কীভাবে এসব টাকা পাচার করছে- কী পথে বিদেশে নিচ্ছে টাকা?

পাচারকৃত টাকার সম্ভাব্যস্থল কোথায়? সেখানে এত আইন-বিধিবিধান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে নিরাপদে টাকা রাখা যাচ্ছে? কেন, কী কারণে তারা দেশের সম্পদ পাচার করছে? সর্বোপরি, এসব পাচারকৃত টাকা কি উদ্ধার করে দেশে আনা সম্ভব?

অনেক প্রশ্ন, অনেক উত্তর। কিছু প্রশ্নের জবাব আছে, কিছু প্রশ্নের জবাব নেই। জবাব আছে কোন শ্রেণির লোক টাকা পাচার করছে তার ওপর, এমনকি কিছু কিছু নাম-ধামও পাওয়া যায়। যদিও বর্তমান রিপোর্টে দেশের কথা থাকলেও নাম-ধাম নেই। দেখা যাচ্ছে, এ বিষয়ে সাবেক অর্থমন্ত্রী মুহিত সাহেব একবার মুখ খুলেছিলেন (যুগান্তর, ১৯.০২.২০)। তার কথায় ‘যারা বিদেশে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট বানাচ্ছেন- এটা সম্পূর্ণ চুরি করেই করছেন।’

এর অর্থ হচ্ছে, যারা টাকা পাচার করছেন, তাদের ওই টাকা চুরি করা টাকা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এ টাকা কোথা থেকে চুরি করছেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত একটি খবর থেকে বোঝা যায়, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকা লুট হচ্ছে। ওই বছরের বাজেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ উইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে।

উইপোকাদের আটক করতে হবে। চুরি হচ্ছে, চুরি কোত্থেকে হচ্ছে; তা বুঝলাম। কারা টাকা-পয়সা পাচার করছে, তার একটা ভালো উত্তর দিয়েছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল তার ২০২০-২১ এর বাজেটে। তিনি বলেছেন, ঋণপত্রের মাধ্যমে (এলসি) যে টাকা ওভার-আন্ডার ইনভয়েসিং করে বিদেশে পাচার করা হবে; তার ওপর ৫০ শতাংশ কর তিনি বাজেটে বসিয়েছেন।

‘চোর’, উইপোকা, ‘এলসি’ করা এক শ্রেণির প্রবাসীও টাকা পাচারকারীদের মধ্যে আছে। তবে বাস্তব চিত্র হচ্ছে, টাকা পাচারের মধ্যে নেই এমন কে আছে, তা বের করাই সঠিক।

‘দুদক’ চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ (৩০.১.১৯) বলেছেন : ‘দুর্নীতির মহাসমুদ্র কাকে ধরব।’ এসব প্রভাবশালী লোকের কথা থেকে বোঝাই যায়, কারা দুর্নীতি করছে, কারা ‘চোর’, কারা উইপোকা এবং কারা ঋণপত্রের মাধ্যমে দেশ থেকে টাকা পাচার করছে। নাম-ধাম? সরকারিভাবে জানা না গেলেও মুখে মুখে এ কথা প্রচারিত।

কার ব্যবসা-বাণিজ্য কোন দেশে, কার বাড়ি-ঘর-অফিস কোন দেশে, কার কারখানা কোন দেশে- এসব খবর যেন আর অজানা খবর নয়। খবরের কাগজে নিয়মিত এসব প্রকাশিত হচ্ছে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে, কুয়েতে বন্দি সংসদ সদস্য পাপুলের।

এত টাকা কীভাবে পাচার হচ্ছে- এ বিষয়ে এক সময় ধারণা ছিল, হুন্ডির মাধ্যমেই এ কুকীর্তি চলছে। এখন দেখা যাচ্ছে, হুন্ডির মতো গোপন মাধ্যমে নয়, প্রকাশ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে এ পাচারের কাজ চলছে।

বস্তুত ওভার-আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো। টাকা পাচারের ঘটনা চলছে সেই পাকিস্তান আমল থেকেই এবং এর মাধ্যম হচ্ছে ব্যাংক।

এ কথা আজ দিবালোকের মতো পরিষ্কার, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা টাকা পাচারের কাজে জড়িত। মাঝে মাঝে কোনো কোনো ব্যাংক কোনো কোনো দেশে দণ্ডিতও হয়। আমাদের দেশেও টাকা পাচারের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ব্যাংক। ব্যাংক জড়িত না থাকলে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অডিট বিভাগ, সরকারি কমার্শিয়াল অডিট বিভাগ, কাস্টমস বিভাগ ইত্যাদির সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা দেশ থেকে পাচার করা সম্ভব নয়।

সবার সক্রিয় সমর্থনেই এ অপকর্ম ঘটছে বহুকাল থেকে। ইদানীং এসব বন্ধ করার জন্য জবরদস্ত একটা আইন করা হয়েছে। এর নাম ‘মানিলন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট’। এ আইনে অর্থ পাচার দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এ আইন থাকা সত্ত্বেও হরে-দরে যাদেরই টাকা আছে; তাদের একটা অংশ বিদেশে টাকা পাঠাচ্ছে, বাড়িঘর করছে; ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। এমন কী পরিবার-পরিজন, ছেলেমেয়েদের বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

বিষয়টি সিরিয়াস দেখে টাকা দেয়ার আগে কোন কোন ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়ে বিদেশে আছে, সরকারি ব্যাংকগুলোকে তা দেখতে বলেছেন অর্থমন্ত্রী। মুশকিল হচ্ছে, এ নির্দেশ মানলে ক’জন ব্যবসায়ী ঋণ পাবেন?

প্রশ্ন, টাকা কোথায় যাচ্ছে; কীভাবে তা রাখা হচ্ছে? পাচার সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো ‘স্ক্যান’ করলে পরিষ্কার জানা ও বোঝা যায়- পাচারকৃত টাকার গন্তব্য কোথায়? এক কথায়, উন্নত দেশেই টাকা পাচার হচ্ছে।

এর মধ্যে যেসব দেশের নাম উঠে আসছে, তার মধ্যে আছে পূর্ব এশিয়ার মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। পশ্চিম এশিয়ার দুবাই, কাতার, ইউরোপের যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা। ইদানীং যোগ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি দেশও। সিঙ্গাপুর বোকা দেশ নয়। তারা সব উন্নত দেশের মতো শুধু ডলার চায়। ডলার সেখানে রাখলে চূড়ান্ত গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।

তাদের নামিদামি ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে খেলে বাংলাদেশের একজন নামকরা যুবনেতা ‘ধরা’ খেয়েছেন। মালয়েশিয়ার কথা সবার জানা। তারাও টাকার-ডলারের উৎস জানতে চায় না। তারা ‘সেকেন্ড হোম’ নামে একটা প্রকল্প করেছে। নির্ধারিত পরিমাণ টাকা নিয়ে গেলে মালয়েশিয়ায় থাকা যায়, ব্যবসা করা যায়, বাড়িঘর কেনা যায়।

২০১৮ সালেই এ প্রকল্পে বাংলাদেশি ৩ হাজার ৭৪৬ জন বাড়িঘর করেছে (প্রকাশিত খবর : ২৯.১১.১৮)।

মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, কাতার ইত্যাদি দেশ হচ্ছে মিড-পয়েন্ট। আবার প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছে।

ওখানকার ব্যাংক-হুন্ডিওয়ালারা উপমহাদেশের টাকা সাদরে গ্রহণ করে এবং ওই টাকা ইউরোপের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। অনেক দ্বীপদেশ আছে, যেখানে টাকার কোনো হিসাব নেই, ট্যাক্স নেই, বিচার-আচার নেই। সেখানে ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি আছে, যারা বিদেশে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ ‘চোরাদের’ অ্যাকাউন্টে জমা দেয়।

শুধু এশিয়ায় হংকংয়ের কথা বলতে ভুলে গেছিলাম। হংকং ছাড়াও ইদানীং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারিত ও গভীরতর হওয়ার কারণে দক্ষিণ চীনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়েছে।

এদিকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য হচ্ছে দুর্নীতিবাজদের কেন্দ্র। আজ থেকে চার বছর আগের এক খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাদের দেশ দুর্নীতির কেন্দ্র। যুক্তরাজ্যের ‘ওভারসিজ টেরিটরি’ আছে।

এর মধ্যে পড়ে ক্যারিবীয় সাগরের দ্বারা ‘ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড’। সেখানে রয়েছে ১০ লাখেরও বেশি নিবন্ধিত কোম্পানি। ১৫৩ বর্গমাইলের এ দ্বীপে ঘরে ঘরে চোরাই কোম্পানি। দাবি আছে ওখানে আইন করার। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তা করছে না। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সঙ্গে আছে কেম্যান আইল্যান্ড। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের ২৫ শতাংশ সম্পদই এখানে।

ব্রিটেনে ২ হাজারেরও বেশি কোম্পানি আছে, যারা টাকা পাচারে পরামর্শ জোগান দেয়। হংকংয়ে আছে ২ হাজার ২১২ ধরনের কোম্পানি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে বিদেশিরা টাকা রেখে যে সুদ পায়, তার ওপর কোনো ট্যাক্স দিতে হয় না। ‘ওইসিডি’ দেশগুলোর মধ্যে আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিনিময়ের চুক্তি আছে। যুক্তরাষ্ট্র তাতে সই করেনি। ডলারের জন্য পাগল আরেক দেশ হচ্ছে কানাডা। সেখানে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা কীভাবে বাড়িঘর কিনে- এ নিয়ে একবার হইচই হয়েছিল। এ পর্যন্তই।

উন্নত দেশগুলোর আর্থিক লেনদেন দেখলে বোঝা যায়, তারা ডলার চায়। ডলারের উৎস কী, তা তারা জানতে চায় না। পাচারকৃত টাকার নিশ্চয়তা দেয় তারা। তাদের লোকজন নিয়মিতভাবে ঢাকায় আসে। বড় বড় হোটেলে থাকে। মোবাইলে মেসেজ পাঠায় এবং বলে- তারা টাকা পাচারে সাহায্য করে থাকে! অবশ্য তারা মুখে একে বিনিয়োগ বলে।

এভাবে বিনিয়োগের নাম দিয়ে পৃথিবীর সব টাকা তারা হস্তগত করছে। এদিকে যেসব দেশ থেকে টাকা যায়, সেসব দেশে চোরাই টাকা রক্ষার ব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন সর্বত্র। আইন হচ্ছে ‘মানিলন্ডারিং প্রিভেনশন অ্যাক্ট’। টাকা নিয়ে ভয়ভীতি সর্বত্র। সমাজ কালো টাকা, কালো টাকা বলে এমন এক পরিস্থিতি করে রেখেছে যে, লাখ টাকা বললেই লোকে বলে- লাখ লাখ টাকার মালিক। অথচ কেউ ভাবেই না যে, লাখ টাকার কোনো মূল্য নেই।

তিনটি প্রশ্ন- ১. পাচারকৃত টাকা কি দেশে ফেরত আনা সম্ভব? ২. পাচারকারীদের বিচার-আচার সম্ভব? ৩. কেন একশ্রেণির বাংলাদেশি পাগলের মতো বিদেশে টাকা পাচার করছে?

প্রথম প্রশ্নের জবাব- না। যতদিন উন্নত দেশে টাকা রাখার ব্যবস্থা থাকবে, প্রশ্নহীনভাবে যতদিন তারা চোরাই টাকার নিরাপত্তা দেবে, যতদিন তারা বিনিয়োগের নামে বিনা প্রশ্নে ডলার গ্রহণ করবে, ততদিন বাংলাদেশ কেন; কোনো উন্নয়নশীল দেশ থেকেই টাকা পাচার বন্ধ করা যাবে না। বড় প্রশ্ন, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত কালো টাকা তৈরি হচ্ছে, এ টাকা কোথায় রাখা যাবে? সর্বত্র কড়াকড়ি। তাই না? জরুরি প্রশ্ন অন্যত্র।

দেশের প্রভাবশালী লোকজন দেশে থাকতে চাইছেন না কেন? যারাই টাকা-পয়সা বানাচ্ছেন, তারাই দেশ ছেড়ে দিচ্ছেন। উকিল, ডাক্তার, কবি-সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক, ব্যাংকার, অধ্যাপক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ দেশের প্রথম শ্রেণির নাগরিকদের কার ছেলেমেয়ে-পরিবার দেশে আছে? ঘরে এসি, গাড়িতে এসি, অফিসে এসি, ক্লাবে এসি- এত আরাম আয়েশ সত্ত্বেও কেন একশ্রেণির নাগরিক দেশে থাকতে চাইছে না?

দেশে হাজার হাজার পরিবার রয়েছে, যাদের বুড়ো-বুড়িরা ঢাকায়; ছেলেমেয়ে সব বিদেশে। সহায়-সম্পত্তি বিদেশে। এত উন্নতির পরও এ অবস্থা কেন? সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে শত শত গরিব বাংলাদেশি মৃত্যুকে অগ্রাহ্য করে কেন বিদেশে যেতে চায়? বাংলাদেশের ‘দুষ’টা কোথায়? কী অভাব আমাদের? এত ত্যাগে অর্জিত স্বাধীনতার এই কী ফল?

শেষ পর্যন্ত কি বাংলাদেশে গরিব-কাঙ্গালরাই থেকে যাবে; যারা সরকারের ‘সামাজিক সুরক্ষার’ সৌজন্যে বেঁচে থাকবে আর বলা হবে- তোমাদের বাঁচার জন্য অন্তত মাসিক ৫০০-১০০০ টাকা ভাতার ব্যবস্থা তো করা হয়েছে?

Comment As:

Comment (0)