No icon

সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড

ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে বারবার অগ্নিকাণ্ডের পেছনে রেগুলার প্রোপার মেইনটেন্যান্স (যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ) না থাকাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, ইকুয়েপমেন্ট (সরঞ্জাম) ফেল করায় আগুনের উদ্ভব হয়।

মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দুই দফা অগ্নিকাণ্ড হয় ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে। গত মঙ্গলবারের অগ্নিকাণ্ডে ১৭ ঘণ্টা ভোগান্তির পর বৃহস্পতিবার সকালে ফের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে সাত ঘণ্টা ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ ছিল। পাওয়ার গ্রিড উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে ভোগান্তি পোহাতে হয় শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলার গ্রাহকদেরও। গত মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডে উপকেন্দ্রের জাতীয় গ্রিডের একটি ৮০/১২০ এমভিএ পাওয়ার ট্রান্সফরমার ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। এর এক দিন না যেতেই বৃহস্পতিবার সকালে মুক্তাগাছা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৩ কেভি লাইন মেরামত শেষে চেক করার পর গ্রিডের কাছে লাইন চালুর অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে লাইন চালুর সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল রুমের সুইচ, কেবল, টিওয়ান ট্রান্সফার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই দফা আগুনে প্রায় একশ' কোটি টাকা ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত এক আবাসিক প্রকৌশলী। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গ্রিডে দুই দফা এমন অগ্নিকাণ্ড ভাবনায় ফেলেছে সবাইকে। কাদের ত্রুটি ও উদাসীনতার কারণে বারবার দুর্ঘটনা, তা খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বিভাগীয় শহরে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি। রেশনিং করে বিভাগীয় শহর ও উপজেলাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। দুই দফায় অগ্নিকাণ্ডের ধাক্কা সামলে এবং উপকেন্দ্রের জাতীয় গ্রিডের ৮০/১২০ এমভিএ ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অন্তত ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন বিদ্যুৎ সংশ্নিষ্টরা।

ময়মনসিংহের নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এমনটি হতো না। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

পিডিবির ময়মনসিংহের প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম সমকালকে বলেন, অবশ্যই প্রোপার মেইনটেন্যান্স করতে হবে, আমরা পিডিবি যেটি করে থাকি। প্রোপার মেইনটেন্যান্স না থাকার একটা ইস্যু থাকতে পারে। বিষয়টি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির এমডিকে বলেছি। কেওয়াটখালী বিভাগীয় শহরের একটি গ্রিড। এখানে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে কেন? এমন প্রশ্ন ছুড়ে তিনি আরও বলেন, এখানে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। আমাদের গ্রাহকদের সঠিকভাবে বিদ্যুৎ দিতে পারছি না। আমরা আশা করছি, তারা (পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি) যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। 

তিনি আরও বলেন, একটি ট্রান্সফরমার বর্তমানে চালু রয়েছে। আরেকটি ট্রান্সফরমার সন্ধ্যা নাগাদ চালু হতে পারে। তবে পুড়ে যাওয়া ট্রান্সফরমারটি প্রতিস্থাপন না করা পর্যন্ত পুরোপুরি স্বাভাবিক বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু সম্ভব নয়। এতে বেশ সময় লাগবে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ময়মনসিংহ উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুল হক সমকালকে বলেন, যেহেতু হাইভোল্টেজ সিস্টেম। ইকুয়েপমেন্ট ফেল করলে আগুনের উদ্ভব হয়। তিনি বলেন, প্রতি মাসে নিয়মিত যন্ত্রপাতি মেইনটেন্যান্স করা হয়। এর কোনো ত্রুটি নেই। তারপরও অনেক কিছু হয়। সব কিছু ঠিকঠাক আছে দেখা গেলেও দুর্ঘটনা ঘটে। এটিও সে ধরনের দুর্ঘটনা।

Comment As:

Comment (0)