No icon

নূতন রাজনৈতিক দল গঠনে প্রবীন শিক্ষাবিদ তাজ হাশমীর প্রস্তাব

প্রবীন শিক্ষাবিদ তাজ হাশমী নূতন রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে প্রবাসে ও বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতীয় তাবেদার বর্তমান ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করতে তিনি এ আহ্বান জানান। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাঁর লেখা খোলা চিঠি এখানে হুবহু তুলে ধরা হল–

প্রিয় দেশবাসী,

যারা দেশে ও বিদেশে বসে বাংলাদেশে গণতন্ত্র তথা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমার ও আমার সহযোগী বন্ধুদের ক্ষুদ্র প্রয়াসের সমর্থন করছেন, তাদের অজস্র ধন্যবাদ ও সংগ্রামী সালাম। আমি ঠিক করেছি, আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতা পেলে, অচিরেই “বাংলাদেশ গণমুক্তি আন্দোলন” নামে ভারত-পুষ্ট শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে এক আন্দোলনের সূত্রপাত করতে চাই। এই আন্দোলন বাংলাদেশে ভারত নিয়ন্ত্রিত ফ্যাসিস্ট সরকারকে উৎখাত করে দেশে এক গণতান্ত্রিক জবাবদিহি মূলক সরকার গঠনের আন্দোলন। আমরা বিএনপি সহ সকল দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শক্তির একতাবদ্ধ আন্দোলনে বিশ্বাসী।

যতদিন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদীদের ভাড়াটিয়া আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত ফ্যাসিবাদের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জন না করে, ততদিন আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না! কেউ আমাদের হয়ে, আমাদের জন্য আমাদের দেশ স্বাধীন করে দেবে, এটা ভাবলে আমাদের পরিণতি ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৭১ সালে দেশ ‘স্বাধীন’ করার পরে আজ পর্যন্ত যা কিছু ঘটেছে ও ঘটছে, তারই পুনরাবৃত্তি হবে মাত্র। বাংলাদেশকে পূর্ণভাবে স্বাধীন করতে হলে আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করতে হবে। আর এ সংগ্রাম হবে দেশ স্বাধীন করার এক বৈপ্লবিক সংগ্রাম। এ ব্যাপারে কোনো সংশয় বা দ্বিমত থাকার কোনো অবকাশ নেই। কেননা পৃথিবীর ইতিহাসে ‘নিয়মতান্ত্রিক’ আন্দোলন দিয়ে দেশীয় বা বিদেশী আশীর্বাদ-পুষ্ট  ফ্যাসিবাদী শাসন উৎখাতের কোনো নজির নেই।

আমি দল-মত, ধৰ্ম ও আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল দেশপ্রেমী বাংলাদেশীদের নিয়ে হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকারকে নূন্যতম সময়ে উৎখাতের জন্য আপনাদের সবাইকে সংগ্রামের প্রস্তুতি গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

আমি নিজে ফ্যাসিবাদ উত্তর বাংলাদেশে কোন পদ গ্রহণ করব না! দেশ স্বাধীন হবার পরে রাজনৈতিক ক্ষমতার কোন অংশীদার হবার আমার আদৌ কোন ইচ্ছা নেই। আমি চাই বিশের কোঠা থেকে পঞ্চাশের কোঠায় যাদের বয়স, তাদের ভেতর থেকে দেশপ্রেমিক, ১০০% সৎ ও যোগ্য বাংলাদেশিরা গণমুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করবে। ১৯৭১ থেকে অদ্যাবধি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের নামে যা কিছু হয়েছে, আমি তার পুনরাবৃত্তিতে বিশ্বাসী নই। যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়!

আপনারা যদি আমার প্রতি আস্থা রেখে, আমার আহবানে গণমুক্তি আন্দোলনের সূত্রপাত করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে আমি এই আন্দোলনের আহবায়ক (কনভেনার) হিসেবে আপনাদের কাছে, দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের, এ আন্দোলন সমর্থন করার আহবান জানাচ্ছি। আপনারা আন্দোলনের সহায়ক হিসেবে কাদের দেখতে চান, তাদের নাম পাঠাতে পারেন। বাংলাদেশে অবস্থানকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন। ভালো কথা, আমি বিশ্বাস করি না, অতি অল্প সময়ে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-পুষ্ট এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে আমরা উচ্ছেদ করতে পারবো! তবে আমি দৃঢ় বিশ্বাসী যে আমরা যদি একতাবদ্ধ হয়ে (অন্য কোন দলের লেজুড় বৃত্তি না করে) দেশে ও বিদেশে এই আন্দোলন গড়ে তুলি, তবে এক থেকে দু’বছরের ভিতর হাসিনা সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব হবে!

মানব সভ্যতার ইতিহাস আমাদের পথ প্রদর্শক। ইতিহাস বলে, জনগণের সামগ্রিক চেষ্টা স্বৈরাচারী অপচেষ্টাকে একসময় সর্বতোভাবে পরাজিত করেছে। হাসিনা সরকার তো আর হিটলার এর নাৎসিবাদী সরকারের মতো শক্তিশালী বা বুদ্ধিমান নয়। হাসিনা আর তার সাঙ্গপাঙ্গরা একটার পর আরেকটা আত্মঘাতী ভুল করে যাচ্ছে আর অথর্ব, সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলগুলো মুখের ভিতর আঙ্গুল দিয়ে কবে শিকা ছিড়বে আর তারা আবার লুটপাটের অংশীদার হবে সে স্বপ্ন নিয়ে বসে আছে। আমাদের স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে যেমন আতঙ্কে রাখতে হবে, তেমনি দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্ব নির্ভর,  সকল অথর্ব ও সুবিধাবাদী দলগুলোকেও বর্জন করতে হবে। তবে এসব দলে যেসব ভালো মানুষ আছেন, তাদের আমরা আমাদের আন্দোলনে স্বাগতম জানাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একতাবদ্ধ তরুণ নেতৃত্বের সামনে হাসিনার ফ্যাসিবাদী সরকার খড়-কুটোর মতো উড়ে যাবে। এদের নেতা ও চেলাচামুণ্ডারা আর এদের আশীর্বাদ-পুষ্ট সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিচারক ও বেসামরিক সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও ধনিক শ্রেণী (যাদের কমপক্ষে ৯০% চোর-ডাকাত ছাড়া অন্য কিছু নয়) কোনদিকে পালাবে, ঠিক করতে পারবে না! আপনারা আমাদের আন্দোলনের সহায়ক শক্তি হিসেবে আমাদের পরামর্শ দিন আর সহযোগিতা করুন। বিজয় আমাদের অবশ্যম্ভাবী!

Comment As:

Comment (0)