No icon

কোটি টাকা ভাগাভাগির অভিযোগে বিজিবি’র সিপাহী নিয়োগ স্থগিত

বিশেষ প্রতিনিধি
ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৯৬তম ব্যাচের সিপাহী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এ অনিয়মের সাথে বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সরকারের প্রাভাবশালীদের অনেকেই জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের লেখা চিঠিতেও অভিযোগের বিষয়ে বলা হয়েছে।

সিপাহী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি ইস্যু করা হয় বর্ডারগার্ড মহাপরিচালক বরাবরে। এই চিঠিতে বিজিবি’র নিয়োগ বিধি বিধানের ব্যত্যয় ঘটানোয় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সেই চিঠির একটি কপি আমার দেশ ইউকে’র হাতে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো: ফিরোজ উদ্দিন খলিফা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৩টি বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে, চলমান ৯৬তম ব্যাচের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা, ২০১৭ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন মন্ত্রণালায়ে পাঠানো এবং বিজিবি আইন ২০১০ ও ২০১৭ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কতৃপক্ষ সংক্রান্ত তথ্য প্রেরণ করা।

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ৯৬তম ব্যাচের জন্য চলমান সিপাহী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হলে মাথাপিছু লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠে। এছাড়াএই নিয়োগ প্রক্রিয়াটির এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের চিঠিতে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ই জুন “ডিজিটাল পদ্ধতিতে ৯৬তম ব্যাচে সিপাহী (জিডি) পদে পুরুষ ও মহিলা প্রার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি” প্রকাশ করে বিজিবি।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রায় ৭৫% শতাংশ শূন্যপদে ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু, অনিয়মের খবর চাউর হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই নিয়োগ স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রথম পর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করার আদেশ দেওয়া হলেও তা মানেনি বিজিবি কর্তৃপক্ষ।

ফলে বাধ্য হয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিজিপি মহাপরিচালক বরাবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান উপসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা।

চিঠিতে বলা হয়, বিজিবি বিধি বিধানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে চলমান ৯৬তম (জিডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছিল। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশনা ইস্যু করা হয়েছিল। কিন্তু, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়নি মর্মে জানানো হয়।

এতে অনতিবিলম্বে ৯৬তম সিপাহী (জিডি) নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে এ বিভাগকে অবহিত করার জন্য পুনরায় চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

এছাড়া, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (জুনিয়র কর্মকর্তা, পদবীধারী বর্ডার গার্ড সদস্য ও সিপাহী) নিয়েগ বিধিমালা -২০০৭ অনুযায়ী চলমান নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দিতেও বিজিবি মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়।

বিজিবি মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো এই চিঠির অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করার জন্য তার একান্ত সচিবকেও দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কুখ্যাত ক্যাসিনো ডন হান্নান প্রধানের সাথে ভোলায় নৌভ্রমণ করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মোঃ সাফিনুল ইসলাম, বিজিবিএম (বার), এনডিসি, পিএসসি। যিনি ক্যাসিনো সাফিন নামেই অধিক পরিচিত।

নৌভ্রমণের ভিডিওতে দেখা যায়, জেনারেল সাফিনকে “আমার বন্ধু” বলে সম্বোধন করছেন ক্যাসিনো ডন হান্নান প্রধান। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হলে ধরা পড়েন এই ডন।
ক্যাসিনো ডনের সঙ্গে সখ্য থাকলেও ‘র’ এর হস্তক্ষেপে সেই যাত্রায় পার পেয়ে যান মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম।

সীমান্তে ভারতের বিএসএফের হাতে বাংলাদেশী হত্যার বৈধতা দিয়ে দিল্লীর বিশেষ বন্ধুতে পরিণত হয়েছেন এই জেনারেল।

রাজধানীর পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর

(বিএসএফ) মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা। বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম।

সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা স্পষ্ট করেই বলেন যে, সীমান্তে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছলে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে তাদের। এ প্রসঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য করে সীমান্তে চলমান হত্যাকান্ডের পক্ষে সাফাই গান বিএসএফ মহাপরিচালক।

জবাবে সীমান্তে বিএসএফের নির্মমতার প্রতিবাদ তো দূরে থাক, বিজিবি প্রধান উল্টো নিহত বাংলাদেশীদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করে ভারতের পক্ষেই সাফাই গান তখন।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম ভারতের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, “সন্ত্রাসীরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। সে কারণেই হত্যার ঘটনা ঘটছে।” অর্থাৎ বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশীদের তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএসএফের অব্যাহত খুনের বৈধতা দেন। বাংলাদেশের জন্য এটাই অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়ে যে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বিজিবি-ই ভারতীয় আগ্রাসনের সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছে। আরো দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ বিজিবি প্রধানের এই প্রকাশ্য দেশদ্রোহীতার বিনা প্রতিবাদে মেনে নিচ্ছে।

Comment As:

Comment (0)