No icon

ভারতে মুসলিম নারীকে পুরিয়ে হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিহার প্রদেশের বৈশালী জেলায় একজন হিন্দু উত্তাক্তকারী এবং তার বন্ধুদের দ্বারা আগুনে পুড়িয়ে হত্যা হওয়া এক মুসলিম মহিলার বিচারের দাবিতে ভারতের অনেক রাজনৈতিক নেতা এবং নারী অধিকার কর্মী ঐক্যবদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

৩০ শে অক্টোবর রসুলপুর গ্রামে অভিযুক্তরা তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়ার পরে ২০ বছর বয়সী গুলনাজ খাতুনকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। রবিবার তিনি অগ্নিদগ্ধের জখমের ফলে মারা যান।

ভিকটিম মহিলার পরিবার অভিযোগ করেছে যে পুলিশ আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছে। তাদের নাম হচ্ছে সতীশ কুমার রাই, চন্দন, এবং বিনোদ রায়।

খাতুনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো ৭৫ শতাংশ বার্ন ইঞ্জারি নিয়ে। পরে তাকে বিহার প্রদেশের বৃহত্তম হাসপাতাল পাটনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়, যেখানে তিনি মারা যান।

তিনি অন্য আরেকজনের সাথে ইঙ্গেজড ছিলেন এবং চার মাসের মধ্যে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

সতিশ কুমার রাই গুলনাজকে জোর করে বিয়ে করতে হয়রানি করছিলেন। রাইয়ের সাথে বিবাহে প্রবেশ করতে অস্বীকার জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে রায় ও তার বন্ধুরা তাকে হত্যা করে বলে গুলনাজের পরিবার বলে।

এর আগে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তের পিতামাতার কাছে হয়রানির অভিযোগ করলেও তারা কিছুই করেনি বলে গুলনাজের পরিবার জানায়।

ইতিমধ্যে গুলনাজ খাতুনের বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে এবং ঘটনাটি বিশদভাবে বর্ণনা করছিলেন। ফেসবুকে তার চিকিত্সার জন্য সাহায্য চেয়ে আবেদনও করা হয়েছিল।

রবিবার খাতুনের মৃত্যুর পরে, তার পরিবার বিচারের দাবিতে নগর চত্বরে একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অনেক মহিলার অধিকার সংগঠন দ্রুত বিচার আদালতে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার পরিচালনার পাশাপাশি অভিযুক্তকে তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে দুই মিলিয়ন রুপি  ক্ষতিপূরণ এবং সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবি করেছে।

সোমবার টুইটারে #জাস্টিস_ফোর_গুলনাজ ট্রেন্ড করায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে দেরি হওয়ায় লোকজন উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

তাছাড়া টুইটারে ভারতের প্রধান বিরোধী কংগ্রেস দলের নেতা রাহুল গান্ধী সরকারকে আক্রমণ করেন এবং এটিকে কুশ্রী ও সুশাসনের ভ্রান্ত ধারণার উপর দোষারোপ করেন।

Comment As:

Comment (0)