No icon

ফলোআপ: রাষ্ট্রীয় পোশাকধারী এই ‘ক্রিমিনাল’দের রাশ টেনে ধরতেই হবে।

উল্লেখিত শিরোনামে সূচনা লেখাটি গত মঙ্গলবার আমার দেশ ইউকে অনলাইন পোর্টাল এবং ফেইসবুকে প্রকাশ করেছিল। লেখাটির উৎস-সূত্র ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রচারিত একটি বাংলা এবং একটি ইংরেজি পত্রিকায় তার দুই দিন আগে প্রকাশিত সংবাদ। প্রকাশিত সংবাদের সংশ্লিষ্ট অংশের সংক্ষিপ্তসার ছিল এমন–

এক।

ঢাকার উত্তরা এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে গেল ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গড়পড়তা ৬% ভোট গ্রহণকৃত নির্বাচনে নিশি-ভোটের সরকারের নির্বাচন কমিশন সাম্প্রতিক রীতি অনুসরণে বিএনপি’র প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার মত ভোট সংখ্যা উল্লেখ করে সরকার সমর্থিত প্রার্থীকে নিরঙ্কুশ ভোট সমেত বিজয়ী ঘোষণা করে। অতঃপর গত কয়েক বছরের রীতি অনুযায়ী বিএনপি’র প্রার্থী ভোটগ্রহণের দিন দুপুরের পরপরই “এই ভোট বাতিল ঘোষণা পূর্বক নতুন করে নির্বাচন দেয়ার দাবি সম্বলিত পথ-বক্তৃতা করে নিজ আবাসে যেয়ে মধ্যহ্নভোজ শেষে নিশ্চিন্ত ঘুমে নিমগ্ন হয়ে পড়েন!” অর্থাৎ সূর্য ডোবার বহু আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় কবরের নিস্তব্ধতা নেমে আসে। অথচ হঠাৎ করেই সন্ধ্যার পর চারিদিকে যখন অন্ধকার হয়ে যায় তখন কাজিপুর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার আর উত্তরা থেকে ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে পুরনো ঢাকা এলাকায় বলা যায় প্রায় একযোগেই ১০/১২টি বাসে কে বা কারা আগুন দেয়! যদিও সামাজিক মাধ্যমের একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে দেখা যায়, জনতার কাছে হাতেনাতে ধৃত এক অগ্নিসংযোগকারী বলছে যে, “তাদের ১৫/২০জনকে এই কাজের জন্য হায়ার করে আনা হয়েছিল। কারা এনেছিল? যাদের কথা সে বলছে তারা আবার সরকার সমর্থিত একটি ছাত্র সংগঠন। একটি পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে যে, এটি নাকি আগের ভিডিও। যেহেতু আমরা এখন আম-জনতার কাতারে আছি কাজেই কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা এটা নিরূপণ করার দায়িত্ব যে রাষ্ট্রীয় পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের, সমস্যা হয়ে গেছে সেই পুলিশেরই উল্লেখযোগ্য একটি অংশ নিজেরাই পার্টি হয়ে তাদের ওপর অর্পিত ন্যায় ও সত্য কাজটি না করে যা করছে প্রচলিত আইনের দৃষ্টিতে তা মূলতঃ ফৌজদারি অপরাধ। অর্থাৎ ক্রিমিনাল অফেন্স। আর এই অফেন্স যারা করে আইনের পরিভাষায় তাদের বলে ‘ক্রিমিনাল’।

কিভাবে তাদের এই কাজগুলো ক্রাইম ওয়ার্ক হচ্ছে তারই কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদাহরণ উল্লেখ করে তা খোলাসা করা চেষ্টা করছি। তার আগে এই বিষয়ে প্রচলিত আইনের বর্ণনা-ব্যাখ্যাগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত রে নেয়া যাক।

দুই।

PRB বা DMP Rules-এর বিধান অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ থেকে বিরত থাকছি কেননা তাতে লেখাটা বড় এবং পাঠকের অভ্যস্ত ছন্দের পতন ঘটায় তারা পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন, পুলিশ নিজে বাদী হয়ে কোন নিয়মিত মামলা রুজু করার আগে যাচাই করে দেখবেন যে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা, আইনের পরিভাষায় যাকে বলে prima-facie, আছে কিনা। যদি ঘটনা সত্য হয় কিন্তু আসামি চিহ্নিত করা না যায়, তাহলে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে মামলা করতে হয়। আসামিদের চিহ্নিত করা না গেলে কোনভাবেই অনুমান বা প্রভাবিত হয়ে কাউকে এজাহারনামীয় আসামি করা যায় না। তাই যদি কোন অসৎউদ্দেশ্য ব্যতিরেকে শুধুমাত্র ভুলবশতঃ তা করা হয়, তাহলে অদক্ষতা বা উদাসীনতার কারণে বাদী-পুলিশ কর্মকর্তার চাকুরী সংক্রান্ত শাস্তি হতে পারে। কিন্তু যদি কু-উদ্দেশ্যে নগদে কিছু পাওয়ার আশায়, হোক তা ভালো পোস্টিং বা  র‍্যাপিড প্রমোশন ইত্যাদির জন্য করা হয়, তাহলে তা হয় দণ্ডনীয় অপরাধ (Criminal offence)। যার সুনির্দিষ্ট শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে দন্ডবিধি আইনের ১৯১ থেকে ২১০ ধারা সমূহের বর্ণনায়।

 তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার হিসাবটা প্রায় একই রকম। যেমন এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলেও তৎপরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই আসামির সম্পৃক্ততা সম্পর্কে যদি তিনি নিশ্চিত হতে না পারেন, তাহলে সেই আসামীকে  আদালতে প্রেরণ না করে থানা থেকেই জামিন দিয়ে দিবেন। ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের সুস্পষ্ট বিধান এমনই। 

 এছাড়াও কোনরূপ যৌক্তিক সাক্ষ্য প্রমানাদি ছাড়াই জোড়া-তালি দিয়ে কোন ব্যক্তির নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা– যদি তা হয় উদ্দেশ্যবিহীন উদাসীনতা তাহলে যাবে চাকরি। আর যদি হয় কু-উদ্দেশ্যে, তাহলে হবে অন্যায় আটক (wrongful confinement) এবং মিথ্যা সাক্ষ্য-প্রমাণ সৃষ্টির ফৌজদারি অপরাধ। যার দন্ডের পরিমাণ সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে দন্ডবিধি আইনের বিভিন্ন অধ্যায়ে।

 মামলা রুজু, তদন্ত সম্পন্ন, চার্জশিট প্রদান ইত্যাদি কোন পুলিশী কার্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন এএসপি থেকে শুরু করে আইজি পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তার বিষয় সুনির্দিষ্ট করে কিছু লেখা হয়নি, তবে ফৌজদারী কার্যবিধি আইনের একটি বিশেষ ধারা (৫৫১) সৃষ্টিই করা হয়েছে সেই সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করে। এই ধারায় ঊর্ধ্বতনদের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তাদের নিম্নতরদের ন্যায়-অন্যায়, বৈধ-অবৈধ ইত্যাদি বিষয়ে নিবীঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ/তদারকি করে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সুতরাং তাঁরাও যদি অসৎউদ্দেশ্য ব্যতিরেকে উদাসীনভাবে তা না দেখেন, তাহলে তাদের চাকরী চলে যেতে পারে এবং তাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ মামলায় অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারেন। কিন্তু তা যদি হয় কু-উদ্দেশ্যে অধঃস্তনদের মতই নগদে কিছু প্রাপ্তির আশায়, তাহলে কিন্তু সেই অধস্তনদের criminal offence-এর হয় সহায়তাকারী নতুবা আশ্রয়দানকারী হিসেবে তিনারাও দণ্ডিত হবেন। দন্ডবিধি আইন অনুযায়ী যার শাস্তিও কিন্তু কমবেশি প্রায় একই। 

 এবারে প্রকাশিত সংবাদের আলোকে পুলিশের কার্যকলাপগুলো দেখে নেয়া যাক।

তিন।

 দৃশ্যপট-১ঃ হযরত আলী, বয়স ৭৫ বছর। যিনি ওই দিন ও সময় আনুমানিক দুপুর ১ঃ৪০মিঃ-এ সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের দোতালায় তাঁর নিজের দোকানে বেচা-কেনায় নিয়োজিত ছিলেন। সেই সময় তাঁর দোকান থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে রাস্তায় বাসে আগুন দেয়ার মামলায় তাঁকে ১নং এজাহারনামীয় আসামি এবং তাঁর অপর সহকর্মী যিনিও ওই সময় এখই মার্কেটে কর্মরত ছিলেন, তাকে ২নং আসামি করে বাদী হয়ে মামলা রুজু করেছে শাহবাগ থানার পুলিশের দারোগা কাজী জাহাঙ্গীর আলম। এই মামলার এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে মোট ৩৬ জনকে, যারা সকলেই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ও বৈধ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের সাথে জড়িত নেতা-কর্মী। উল্লেখ্য, যে ধারা ও আইনে মামলাটি রুজু করা হয়েছে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়েছে এসআই সুজনকে। ইতিমধ্যেই উল্লেখিত দু’জনের পাশাপাশি সে এজাহারনামীয় অনেক আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অনেককে রিমান্ডেও এনেছে এবং অন্যান্যদের আনার পরিকল্পনা করছে। কেননা দৈহিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনগুলো মূলতঃ কার্যকরী হয় সেই সময়ই।

 দৃশ্যপট-২ঃ ক্যান্সারে আক্রান্ত ষাটোর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধা জাহানারা বেগম, যাঁকে নিয়ে তার সন্তান, রোলেক্স গত শনিবার হাসপাতালে যাওয়ার কথা, পুলিশের মামলায় গ্রেফতারের ভয়ে তা করতে না পারায় মৃত্যুপথযাত্রী জাহানারা বেগম। অথচ যে দিন ও সময় বাসে আগুন দেয়া হয় সেই সময়ে বা দিনের সারাক্ষণই তিনি ছিলেন আদালত প্রাঙ্গণে তার বিরুদ্ধে পূর্বে রুজুকৃত গায়েবী মামলার হাজিরা সংক্রান্ত কার্যক্রমে। রোলেক্স-এর বক্তব্য, পুরানো ঢাকা অঞ্চলে পুলিশ বাদী হয়ে কোন রাজনৈতিক মামলা করলেই তাকে আসামি করা পুলিশের একটি অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। নয়াবাজার থানা পুলিশের রুজুকৃত এই মামলার বাদী দারোগা দুলাল চন্দ্র কুন্ডু। তার দাবী, বিএনপির একটি মিছিল থেকে বের হয়ে লোকজন বাসে আগুন দিয়েছে! প্রকাশিত সংবাদের পত্রিকা রিপোর্টার নিজে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধান করে দেখেছেন, ঐদিন ঐ এলাকায় বিএনপি’র কোন মিছিলই অনুষ্ঠিত হয়নি। বাস্তবতা হলো, এগ্রেসিভ কোন মিছিল করার মত নৈতিকতা, শক্তি বা সামর্থ্য বর্তমান বিএনপি’র কোন পর্যায়ের নেতৃত্বই মূলতঃ নেই বললেই চলে। 

দৃশ্যপট-৩ঃ খিলক্ষেত থানায় যে মামলাটি পুলিশ ১১৪জন বিএনপি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে জনৈক দুলাল হাওলাদারকে বাদী করে রুজু করেছে– সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেই দুলাল বলেছেন, এই ধরনের কোন মামলা তিনি করেননি। অথচ একটি জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া), ওয়ালিদ হোসেন বলেছেন, “সম্ভবতঃ বাদী ভয়ে এখন বাদী হওয়ার কথা স্বীকার করছে না।” তার মানে ডিসি সাহেব বিষয়টি অনুসন্ধান না করেই এমন মন্তব্য করলেন, যাতে স্পষ্টতই প্রমাণিত হয় যে, এতে হয় তার সহায়তা অথবা তার আশ্রয়প্রদানের কারণ নিহিত আছে। 

 দৃশ্যপট-৪ঃ জাকির হোসেন সিদ্দিকী, পল্টন থানা এলাকায় বাস পোড়ানোর সময় কলাবাগান থানা এলাকার ল্যাব এইড হাসপাতালের কেবিনে তার ৫দিন পূর্ব হতেই ভর্তি ছিলেন। গত ২৩শে অক্টোবরের অপর এক ঘটনায় পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়ে হাতের চারটি আঙ্গুলের ফ্র্যাকচার গ্যাংগ্রিনে পরিণত হওয়ায় তিনি সেখানে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। পল্টন থানার দারোগা শাহিন মিয়া বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছে তাতে জাকির হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে! 

 একই মামলায় আসামি করা হয়েছে নাজমুল আলম নাজুকেও। যিনি ঘটনার সময় ঢাকাতেই ছিলেন না। ছিলেন ঢাকা থেকে প্রায় চারশো কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়ি রংপুরে। তিনি এমন বড় কোনো নেতাও নন যে, রংপুর থেকে আদেশ দেবেন আর সেই আদেশ ঢাকার নেতাকর্মীরা তামিল করবে। 

এই সকল মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৫০-এর অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার এবং তার মধ্যে অনেককে রিমান্ডে এনে নির্যাতন করেছে, কিন্তু প্রকৃতই বাসে আগুনগুলো দিয়েছে কে তা গত বুধবার অর্থাৎ ঘটনার ৭দিন পর পর্যন্ত সনাক্ত করতে পারেনি। 

 উল্লেখ্য যে, পল্টন এলাকার অগ্নিসংযোগের ঘটনাযর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় যে, দুজন যুবক স্ট্যান্ডে পার্ক করে রাখা একটি বাসে কিছু একটা নিক্ষেপ করার সাথে সাথেই তাতে আগুন ধরে গেলে নিমিষেই তারা নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করে। ওসি পল্টন থানা, আবু বকর সিদ্দিক গত বুধবার দিন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, এখন পর্যন্ত সেই দুই জনকে তারা শনাক্ত করতে পারেনি।

 নিজ থানায় রুজুকৃত মামলার আসামি সনাক্তকরণে প্রায় অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করেছেন ইতিমধ্যেই ১৬জন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ ও রিমান্ডে আনয়নকারী ওসি বংশাল শাহজাহান ফকির।

লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো– কমবেশি যে ১২টি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তাতে একজন যাত্রী বা বাস কর্মচারীও আহত বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হননি। অপরাধ বিজ্ঞান (criminology) সম্পর্কে যাদের ন্যূনতম ধারণা আছে, তাঁরা সন্দেহাতীতভাবেই বলতে পারবেন যে, এটা অত্যন্ত প্রশিক্ষিত ব্যক্তিবর্গের সুপরিকল্পিত কাজ। অবশ্যই ভাড়া করা কোন টোকাই বা কর্মীর কাজ নয়। ঘটনার পূর্বাপর বিশ্লেষণ করে বাকী সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার সম্মানিত পাঠকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে বুক ভরা বেদনা ও শঙ্কা নিয়ে আজকের মত এখানেই ইতি টানছি।

কি সেই শঙ্কা?   

শঙ্কাটি হল, আমার এক সময়ের কর্মরত বিভাগের সেই সকল অবুঝ বর্তমান সহকর্মীদের আশু ভবিষ্যত চিন্তা করে। যারা বুঝে না বুঝে অথবা সামান্য কিছু স্বার্থের জন্য এই বিপদজ্জনক কাজগুলো করে চলেছেন। একবারও ভাবছেন না যে, এই সকল অপরাধের জন্য এক সময় যখন জেলে যাবেন তখন তাদের নিজেদের এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবার-পরিজনদের অবস্থা কি হবে! 

 আল্লাহ অতিসত্বর তাদের হিদায়ত (যথার্থ জ্ঞান) দান করুন– এই ঐকান্তিক প্রার্থনা রইলো তাদের জন্য। [শেষ] 

Comment As:

Comment (0)