No icon

আল-জাজিরার ডিরেক্টর জেনারেলসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার ডিরেক্টর জেনারেল ডা. মোস্তফা সুয়াগসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। চ্যানেলটিতে প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিসটারস মেন’ শিরোনামের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে নিয়ে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য প্রকাশের অভিযোগ এনে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

আজ (বুধবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আাশেক ইমামের আদালত বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক মামলাটির আবেদন জমা দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- হাঙ্গেরি প্রবাসী বাংলাদেশি জুলকারনাইন সায়ের খান (সামি), সুইডেন প্রবাসী সাংবাদিক ও নেত্র নিউজ-এর প্রধান সম্পাদক তাসনীম খলিল ও ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।

মামলা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক বলেন, প্রধানমান্ত্রী ও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে সম্মানহানির বক্তব্য দিয়ে যড়যন্ত্র করেছে। অবৈধভাবে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে যা রাষ্ট্রদ্রোহের সামিল।

তিনি আরও বলেন, দণ্ডবিধির ১৮৬০ সালের আইনের ১২৪, ১২৪এ,১৪৯,৩৪ ধারায় মামলার আবেদন দিয়েছি। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবেদনটি আদেশের জন্য রেখেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রের সুনাম হানি করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে অপপ্রচার চালিয়েছে। তারা রাষ্ট্রদ্রোহিতা মূলক অপরাধে লিপ্ত আছে। তারা যৌথভাবে তাদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের নিয়ে ভুয়া মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন (All The Prime Minister's Men)’ নামে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী একটি প্রতিবেদন প্রচার করে এবং ওই প্রতিবেদন ইউটিউবেও ব্যাপকভাবে প্রচার করে। যা পরেরদিন বিভিন্ন মুদ্রিত ও অনলাইন পত্রিকায়ও প্রচারিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য ইসরায়েল থেকে কিছু সামরিক ব্যবহার্য গোয়েন্দা সরঞ্জাম কেনা হয়েছে যাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ দুর্নীতি করেছেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রীর লোক, তার মাধ্যমে বর্তমান সরকার দেশে গণবিরোধী ও দুর্নীতি কার্যক্রম চালিয়ে জনগণকে সে ব্যাপারে কথা বলতে না দিয়ে জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। আসামিরা ওই প্রতিবেদনে কোনও সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট কোনও বক্তব্য না দিয়ে এবং তথ্য-উপাত্ত বা দলিলাদি উপস্থাপন না করেই ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে শুধু কিছু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অনুষ্ঠানাদি ও সাক্ষাৎকারের ছবি ব্যবহার করেছে। তারা কণ্ঠস্বর সম্পাদনা করে একটি কাল্পনিক, ভুয়া, মিথ্যা ও সাজানো কল্পিত তথ্যচিত্রের প্রতিবেদন তৈরি করে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে আল জাজিরা টেলিভিশনসহ ইউটিউবের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে অপপ্রচার করেছে। যা দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের সরকার ও রাষ্ট্রের সুনাম ও মর্যাদার হানি ঘটিয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর মুখপাত্র এত্তেফান দুজারিচ বলেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আল জাজিরার ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত ধরনের সামরিক গোয়েন্দা নজরদারিমূলক কোনও সরঞ্জাম ব্যবহার করে না। এ ধরনের অভিযোগ কেন হয়েছে তা তদন্ত করা হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এ জাতীয় যে সব সরঞ্জাম হাঙ্গেরির সরবরাহকারীর মাধ্যমে কেনা হয়েছিল সে সময়ে সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আজিজ আহমেদ ছিলেন না। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পরে প্রতিবেদনে উল্লেখিত এ ধরনের সরঞ্জাম কেনা হয়নি। আসামিরা তাদের ষড়যন্ত্রমূলক অবৈধ কার্যক্রমের দ্বারা দেশের অত্যন্তরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করেছে, যে ষড়যন্ত্র এখনও চলমান।

আল জাজিরায় গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়, যা ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। সরকারিভাবে এ প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও এ প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে আল জাজিরা টিভি নেটওয়ার্কের দেওয়া ওই প্রতিবেদনটিকে অসত্য-বানোয়াট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়,  ‘ওই প্রতিবেদন দৃষ্টে স্পষ্টতই প্রতীয়মান যে, সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, তথা সেনাবাহিনী প্রধানকে বাংলাদেশের জনগণ ও বিশ্বের দরবারে বিতর্কিত, অগ্রহণযোগ্য ও হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অন্যান্য অসত্য, বানোয়াট, মনগড়া, অনুমাননির্ভর ও অসমর্থিত তথ্য সংযুক্ত করে এই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে

Comment As:

Comment (0)