No icon

মুশতাক আহমেদের মৃত্যু: প্রতিবাদ ও ক্ষোভের মাঝেই ডিজিটাল আইনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সাফাই

বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আটক প্রতিবাদি লেখক মুশতাক আহমেদের কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ আইনটিকে নিবর্তনমূলক আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে রাজপথে সোচ্চার হয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও  ছাত্র সংগঠনসমূহ। পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওইসিডিভুক্ত (ধনী দেশগুলোর সংগঠন) দেশগুলোর কূটনীতিকেরা এবং দুুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে সবাইকে সুরক্ষিত রাখতেই এই আইন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে শনিবার গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন  প্রধানমন্ত্রী।

এই আইনের সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন,  তারা কি বাস্তব কথাটা একবার উপলব্ধি করছে না। “আমার বয়স ৭৫ বছর। স্কুল জীবন থেকে রাস্তায় নামি। ৬২ সাল থেকে পথে পথে মিছিলে মিছিলে যোগ দিয়েছি। কাজেই এ দেশের সবাইকে আমার চেনা আছে।”

কারও নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ হ্যাঁ, কারও মৃত্যু কাম্য নয়। কিন্তু সেটাকে কেন্দ্রে করে একটা অসন্তোষ সৃষ্টি করাও কাম্য নয়। অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কি করার আছে? ওদিকে, কারাগারে লেখক মুস্তাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটিকে আগামী ৪ কর্মদিবসে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর জামিনের আবেদন করেছেন।আজ রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিমের আদালতে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী। গত বছরের ৬ মে থেকে এ মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেয়ার অভিযোগে তিনিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয় রমনা থানায়।

একটি বিতর্কিত আইন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি তৈরির আগে এবং পরে কারও আপত্তিই আমলে নেয়নি সরকার। ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে এ আইনের বিল পাস হয়। পরের মাসে (৮ অক্টোবর ২০১৮) রাষ্ট্রপতি বিলটিতে সই করেন। এর মাধ্যমে বহুল বিতর্কিত আইনটি কার্যকর হয়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া তৈরি, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন, সংসদে বিল উত্থাপন ও রাষ্ট্রপতির সইয়ের আগে ও পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সম্পাদক পরিষদ এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা আপত্তি তুলেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বৈঠক করে আপত্তিগুলো শুনেছিলেন।

কিন্তু শেষে দেখা যায়, দাবিগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। এ আইনে পরোয়ানা ছাড়াই  তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয় পুলিশকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর দুই বছর চার মাসের মতো পেরিয়েছে। গত বছর হওয়া ১৯৭টি মামলা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেশির ভাগ মামলাই হয়েছে ‘কটূক্তি’, ‘মানহানিকর বক্তব্য’, ‘বিকৃত ছবি শেয়ার’, ‘গুজব ছড়ানো’ এবং ‘সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’জাতীয় অভিযোগে। ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে মামলার বাদী পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা–কর্মীরা।

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) গতকাল শনিবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে একটি সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ আইনে ৭৮৩টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।#

Comment As:

Comment (0)